আমরা পৃথিবীতে আর কতদিন? বাঁচি খুব বেশি হলে ১০০ বছর। ১২ বছরের পর থেকে কৈশোরে পা দেই আর কৈশোরের হাত ধরে আসে যৌবন। যৌবন থাকে খুব বেশি হলে ৪০ বছর পর্যন্ত। বয়সের সাথে সাথে আমাদের চেহারায় পড়ে বয়সের ছাপ। কোনোভাবে আমরা তা রোধ করে রাখতে পারি না। কিন্তু আমরা সকলেই চাই চিরজীবন যেন আমাদের তরুণ দেখায়, যেন অক্ষয় হয় যৌবন। কীভাবে চিরকাল ধরে রাখবেন যৌবন? আসুন, জেনে নেই সেই গোপন সূত্র।

১. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন :

মানবদেহের ৬০ শতাংশই পানি। দেহে পানির পরিমাণ কমে গেলে বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দেয়। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া প্রয়োজন। তবে এর বেশি হলে আরও ভালো। দেহে প্রচুর পরিমাণে পানি সরবরাহ হলে দেহের ভেতরের বিভিন্ন শিরা উপশিরা ভালোভাবে কাজ করতে থাকে। বিশেষ করে এটি হজমক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এছাড়া এটি ত্বকের নমনীয়তা, স্পন্দনশীলতা রক্ষা করে, দেহের দূষিত পদার্থ নিঃসরণ করে, অনিদ্রা দূর করে।

২. চাপ কমানো :

প্রতিটি মানুষেরই জীবনে বিভিন্ন ধরনের মানসিক এবং শারীরিক চাপ থাকে। এই ধরনের চাপ যেকোনো উপায়ে কমানো উচিৎ। গবেষণায় দেখা গেছে মানসিক চাপ দেহের উপরে আঘাত হানে, হরমোন শুকিয়ে ফেলে এবং কোষ তৈরিতে বাঁধা দিয়ে থাকে। অনেক পদ্ধতি রয়েছে এই মানসিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার। এর জন্য বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন আনা যেতে পারে। শারীরিক ব্যায়াম, গভীরভাবে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া, মেডিটেশন করা এই ধরনের মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করে। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়, দেহে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং শরীরের শক্তি বেড়ে যায়। এর ফলে তারুণ্য ফুটে ওঠে।

৩. ফ্রুট ফেসিয়াল করুন :

চিরতরুণ দেখাতে আপনি আপনার পছন্দমত মুখে ফ্রুট ফেসিয়াল করতে পারেন। মুখে পেঁপের মিক্স লাগাতে পারেন। পেঁপেতে থাকা এনজাইম যেটিকে পাপাইন বলে এটি ত্বকের মরা চামড়া তুলে ফেলে এবং মেলানিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এছাড়া স্ট্রবেরীর খন্ড অংশ মুখে ঘষলে বিটা ক্যারোটিন তৈরি করে এবং কোলাজেন তৈরিতে ভিটামিন এ সরবরাহ করে। প্রাকৃতিক এ্যালোভেরা ত্বকের নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে, মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করে এবং পরিচ্ছন্নতা আনে। এই ধরনের প্রাকৃতিক নির্যাস ত্বকে শীতলতা এবং নমনীয়তা ফিরিয়ে আনে এবং চিরতরুণ থাকতে সহায়তা করে।

৪. নিয়মিত ব্যায়াম :

আপনি যদি নিজেকে চিরতরুণ দেখাতে চান তাহলে অবশ্যই একটা নিয়ম করে শারীরিক ব্যায়াম করবেন। আপাতদৃষ্টিতে শারীরিক ব্যায়াম ত্বকের প্রাঞ্জলতা ফিরিয়ে আনার এক অতুলনীয় পদ্ধতি। পেশীর কাজ সহজ করে তোলে এই শারীরিক ব্যায়াম। সাধারণত বয়স হয়ে গেলে শরীর সেভাবে কাজ করে না। কিন্তু একমাত্র শারীরিক ব্যায়াম শরীরের নমনীয়তা এবং কমনীয়তা বজায় রাখে। এটি হার্টের সমস্যাকের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং সজীব ও প্রাণবন্ত দেখাতে সহায়তা করে। শারীরিক ব্যায়াম রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক রাখে যেটি মস্তিষ্ককে সচল রাখে। সবচেয়ে সুবিধাজনক শারীরিক ব্যায়াম হল প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা।

৫. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার :

চিরতরুণ দেখাতে একটি সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি করতে পারেন যেখানে বেশিরভাগ খাদ্যের মধ্যে থাকবে ফলমূল এবং সবজি। গরুর মাংসসহ বিভিন্ন মাংস থেকে দূরে থাকাই ভালো এবং সম্ভব হলে সামুদ্রিক কোনো খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন। পাউরুটি এবং শস্যদানা জাতীয় খাবারকে বিদায় দেয়া চিরতরুণ থাকার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল এনে দেবে। ফলমূল এবং সবজি জাতীয় খাবার দেহে এন্টি-অক্সিডেন্টের যোগান দেবে যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ত্বকের পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে এবং ঔজ্জ্বলতা ধরে রাখে। ফলে চিরতরুণ দেখাতে সহায়তা করে।

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.