Articles by "ভ্রমন"

ভ্রমন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সিঙ্গাপুর ভ্রমণের গল্প
রাইসা আনিলা রহমান 

আমাদের সিঙ্গাপুরের ভিসা হয়ে গেছে। টিকেট কাটাও শেষ। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আমাদের ফ্লাইট। এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের যাওয়া অনিশ্চিত। বাবা বলল, ‘আমরা যাবো। কিছুই হবে না ইনশাআল্লাহ।’

১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল বেলা আমরা সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলাম! খুব সুন্দর এয়ারপোর্ট। অনেক গাছপালা ভেতরে। সবুজে ভরা। একটি ঝরনাও আছে। মনে হয় আকাশ থেকে পানি ঝরছে। এয়ারপোর্ট ঘুরে দেখে চলে গেলাম এমআরটি স্টেশনে। টিকেট কেটে ট্রেনে উঠলাম। যাব আমাদের হোটেলে। হোটেলের নাম ‘দি ক্লারমন্ট হোটেল’। পাশেই সুন্দর একটি মাঠ আছে। একটি সুন্দর মসজিদও আছে। বিখ্যাত মোস্তফা সেন্টার থেকে খুব কাছে আমাদের হোটেল।

সিঙ্গাপুর খুব সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কোথাও ময়লা নেই। যানজট নেই। সবাই খুব নিয়মকানুন মানে। সিগন্যাল না পড়লে কেউ রাস্তা পারাপার হয় না। লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থেমে যায়। সবুজ বাতি জ্বললে আবার চলতে শুরু করে। আমরাও নিয়ম মেনে রাস্তা পারাপার হয়েছি। ময়লা-আবর্জনা ডাস্টবিনে ফেলেছি। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেললে জরিমানা করা হয়।

সিঙ্গাপুরে আমরা অনেক কিছু দেখেছি। আমরা মানে- বাবা, আম্মু আর আমার ছোট বোন রাইদা। রাইদা ক্লাস ওয়ানে পড়ে। ও অনেক দুষ্টু। সিঙ্গাপুরের জুরং বার্ড পার্ক অনেক সুন্দর। নানা রঙের পাখি আছে এখানে। সাপ, ব্যাঙ, পেঙ্গুইন, বকসহ বিভিন্ন অদ্ভুত ধরনের প্রাণী দেখেছি আমরা। খোলা ট্রামে করে পুরো পার্কে চক্করও দিয়েছি।

সিঙ্গাপুরের বোটানিক গার্ডেন আরো বেশি সুন্দর। বিশাল এই পার্কে অনেক গাছ আছে। এখানকার অর্কিড গার্ডেন ঘুরে আমরা খুব মজা পেয়েছি! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে অর্কিড গাছ দেখে অবাক ও আনন্দিত দুটিই হয়েছি। পৃথিবীর সব বিখ্যাত মানুষের নামে গাছ আছে এই গার্ডেনে। অনেক বাংলাদেশি এখানে কাজ করেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।

সিঙ্গাপুরের আরেকটি সুন্দর জায়গা সেন্টোসা আইল্যান্ড। পৃথিবী বিখ্যাত ইউনিভার্সাল স্টুডিও, সমুদ্রের নিচে মাছের জগৎ সি অ্যাকুরিয়াম, সিলোসো বিচ ও পালোয়ান বিচ আমরা ঘুরে ঘুরে দেখেছি! খোলা ট্রামে করে এক বিচ থেকে আরেক বিচে ঘুরেছি। কোনো টাকা লাগে না! যেখানে খুশি নামা যায় আবার ওঠাও যায়। পৃথিবী বিখ্যাত ম্যাকডোনাল্ডসে আমরা দুপুরে খেয়েছি। ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে থালির খাবার খেয়ে মজা পেয়েছি খুব।

অর্ধেক মাছ আর অর্ধেক সিংহ দেখতে মারলায়ন স্কয়ারে যাই। পাশেই মেরিনা বে স্যান্ডস, গার্ডেন্স বাই দা বে। আমরা এখানে স্পিডবোটে চড়েছি। এই এলাকাটা রাতের বেলা দেখতে খুব সুন্দর লাগে।

পুরো সিঙ্গাপুর ঘুরে আমরা খুব মজা পেয়েছি। এমআরটি স্টেশন, শপিংমল, পার্ক, রাস্তা সবই খুব সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছিন্ন ও সাজানো-গুছানো।

আমাদের পরবর্তী গন্তব্য মালয়েশিয়া। সিঙ্গাপুর ছেড়ে যেতে খুব খারাপ লাগছে আমার। রাইদার মন বেশি খারাপ। মালয়েশিয়ার গল্প আরেক দিন বলব। লংকাউয়ি, গেন্টিং হাইল্যান্ড, পুত্রজায়া, কুয়ালামপুরের অনেক গল্প আছে।

য় ষষ্ঠ শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন

স্কুল এন্ড কলেজ, বসুন্ধরা শাখা।


সাময়িকী.কম
রবিউল ইসলাম রবি
রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুর কাচারিবাড়ির সঙ্গে আমার সাংবাদিকতা জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এই স্মৃতি আজও আমার হৃদয় আলোড়িত করে, আমি আনন্দিত হই। কাচারিবাড়িতে রক্ষিত অর্ডার বুক থেকে জানা যায়, জমিদারি দেখাশোনার কাজে কবিগুরু ১৮৯০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম শাহজাদপুর আসেন। ১৮৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি এখানে এসেছেন। শাহজাদপুর কাচারিবাড়ি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ছিল নীলকরদের কুঠি। যে কারণে এখনো এটা ‘কুঠিবাড়ি’ বলে পরিচিত। পরে কবিগুরুর ঠাকুরদাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারি নিলামে উঠলে মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় কিনে নেন। এই এলাকা নাটোরের জমিদারির অংশ ছিল। জমিদারি কিনে নিলে প্রায় ১০ বিঘা জমিসহ এই কুঠিবাড়িটিও কবি পরিবারের হাতে আসে।
কবিগুরু পিতার নির্দেশে জমিদারির কাজে শাহজাদপুরে বিভিন্ন সময় এসেছেন। এখানে  অবস্থানকালে তিনি শুধু জমিদারি দেখাশোনার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, প্রয়োজনকে ছাপিয়ে তার মনের মধ্যে জায়গা করে নেয় সাহিত্য সৃষ্টির অনুপ্রেরণা। কুঠিবাড়িতে বসেই তিনি কালজয়ী সাহিত্য রচনা করেছেন। যেগুলো ‘সোনার তরী’ কাব্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।  এ সময় তিনি কিছু ছোটগল্পও রচনা করেন। সেগুলোর মধ্যে ‘দুই পাখি’, ‘ব্যর্থ যৌবন’, ‘কুমার সম্ভবের গান’, ‘ইছামতি নদী’, ‘পোস্ট মাস্টার’, ‘রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা’, ‘ছুটি’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘অতিথি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর বাইরেও কবি এ সময় ছিন্নপত্র এবং  ছিন্নপত্রাবলির আটত্রিশটি পত্র রচনা করেন। পাশাপাশি গানও তিনি রচনা করেছেন শাহজাদপুর কাচারিবাড়িতে বসে।
ঠাকুর পরিবারের জমিদারি ভাগাভাগি হলে শাহজাদপুরের জমিদারি চলে যায় কবির অন্য শরিকদের হাতে। ফলে ১৮৯৭ সালের পর তিনি আর শাহজাদপুর আসেননি। শাহজাদপুর ছিল কবিগুরুর অত্যন্ত প্রিয় এবং ভালোলাগার স্থান। বিভিন্ন লেখায় বিশেষ করে ছিন্নপত্রাবলিতে তিনি সে কথা গভীর আবেগে স্মরণ করেছেন। ১৮৯৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শাহজাদপুর থেকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি বলেছেন : এখানে (শাহজাদপুর) যেমন আমার মনে লেখার ভাব ও ইচ্ছা আসে, এমন কোথাও না। (ছিন্নপত্র-পত্র সংখ্যা ১২৯)।
১৯৪০ সালে কবিগুরুর মৃত্যুর পর শাহজাদপুর কাচারিবাড়ি অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হতে থাকে। তদুপরি ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর বাড়িটি পাকিস্তান সরকার প্রথমে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে এবং পরে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে বাড়িটি শাহজাদপুর ভূমি অফিসকে বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে ভবনের নিচ তলা শাহজাদপুর তহশিল অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। উপর তলায় কবিগুরু যেখানে থাকতেন সেটি নায়েব তহশিলদারদের থাকা-খাওয়া ও রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, কবিগুরুর ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলোও তারা ব্যবহার করতে থাকে। এভাবেই ভবনটি সকলের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।
১৯৬৮ সাল। আমি তখন সবেমাত্র ‘দৈনিক সংবাদ’-এর পাবনা জেলা (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। হঠাৎ চিঠি পেলাম অফিস থেকে। সেখানে লেখা : ‘আপনি শাহজাদপুর গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঠাকুরবাড়ির উপর ছবিসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করে যত দ্রুত সম্ভব পাঠাবেন।’ অফিসের নির্দেশ পেয়ে পরদিন গেলাম কাচারিবাড়িতে। পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে শাহজাদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে ডান দিকে গেলেই সামনে বাজার। এখানে সাপ্তাহিক হাটও বসে। হাটের নাম দ্বারিয়াপুর হাট। এই হাটসংলগ্ন একটি গ্রাম- দ্বারিয়াপুর। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের নামানুসারে এই এলাকাটির নামকরণ করা হয়। হাটে পৌঁছেই দেখতে পেলাম একটি মাঠ। মাঠের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে বহু স্মৃতির নীরব সাক্ষী শাহজাদপুর ঠাকুরবাড়ি। হলুদ রঙের দ্বিতল পাকা ভবন। পাশে ভগ্নপ্রায় আরও কয়েকটি একতলা ভবন। কুঠিবাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গা। হাটবার ছাড়া অন্যান্য দিন সকালে সেখানে বাঁশ, খড়ি ইত্যাদি বিক্রি হয় বলে স্থানীয়রা জানালেন। আমি যথারীতি উত্তর পাশ দিয়ে ঠাকুরবাড়ির বারান্দায় গিয়ে পৌঁছলাম।
বাড়িটির পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদীর একটি শাখা। কুঠিবাড়ি চত্বরের পশ্চিম দিকে ছিল ঠাকুর জমিদারির মালখানা আর কর্মচারীদের বাসস্থান। সে বাড়িগুলোর অবস্থাও দেখলাম অনেকটাই জীর্ণ- ইট, চুন, সুরকি খসে পড়েছে। এবার নিচতলার চারদিকে ঘুরে দেখলাম। নিচতলার উত্তর দিকে ছিল একটি পাঠাগার। পাঠাগারে প্রবেশ করেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানলাম কবিগুরুর অনেক বই পাঠকরা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। যে বইগুলো অবশিষ্ট রয়েছে সেগুলোর অবস্থাও ওই ভবনের মতো। দেখাশোনার কেউ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি করা হয় না। পাঠাগারের একটি পরিচালনা কমিটি আছে কিন্তু তাদেরও পাঠাগার উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই মনে হলো।
নিচতলায় একটি পোস্ট অফিসও দেখতে পেলাম। সামনের উত্তর দিকে প্রধান প্রবেশপথ। লোহার শিক আর মাঝে মাঝে ইটের পিলার দিয়ে কুঠিবাড়ির সম্মুখভাগ ঘেরা। তাও আবার অনেক জায়গায় ভাঙা। স্থানীয় জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেল কুঠিবাড়ির উত্তর ও দক্ষিণ দিকে বাগান ছিল কিন্তু তার অস্তিত্ব লুপ্তপ্রায়। কুঠিবাড়ির চতুর্দিকে আম, লিচু, ঝাউগাছ ও ফুলের বাগান ছিল। যত্নের অভাবে সেগুলোও নেই। উত্তরের বারান্দায় অবস্থিত সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠলাম। দোতলায় বারান্দার চতুর্দিকে রেলিং ছিল কিন্তু কিছুই চোখে পড়ল না। এক সময় দক্ষিণের বারান্দা থেকে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠবার ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু তার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম না। একজন দাঁড়িয়ে আছেন দেখে পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘আমি হাসান আলী, ঠাকুরবাড়ি পাহারা দেই। বাবুরা চলে গেলেন, আমরা সেই থেকে এখানেই আছি। আমার বাবা কোরবান আলী ছিলেন কবিগুরুর খাস কামরার লোক।’ হাসান আলীকে নিয়ে কবি যেখানে থাকতেন সেই ঘরগুলো দেখলাম। তিনি বর্ণনা দিতে লাগলেন, কোন ঘরে কবি থাকতেন, কোন ঘরে লেখালেখি করতেন, কোন ঘরে অতিথিদের নিয়ে বসতেন ইত্যাদি।
আমি সব দেখে মর্মাহত হলাম, কষ্ট পেলাম। কারণ তখন সেখানে নায়েব তহশিলদাররা থাকছেন। এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহারে ক্ষুব্ধ না হয়ে উপায় ছিল না। সেদিন আমি সেখানে গিয়ে দেখলাম, কবির কত স্মৃতি উপেক্ষিত হয়েছে। দেখলাম পূর্ব পাশের যে ঘরে কবি রচনা করেছেন অমূল্য সব রচনা সেই ঘর তহশিলদারেরা প্রস্রাবখানা হিসেবে ব্যবহার করছেন। ভাবা যায়! কবির ব্যবহার করা পালকি ব্যবহৃত হচ্ছে নায়েব সাহেবদের জুতা, স্যান্ডেল রাখার কাজে। শ্বেত পাথরের যে বিরাট টেবিল ছিল, কবি ব্যবহার করতেন, সেই টেবিলে তরকারি এবং হাঁড়ি-পাতিল রাখা! কবির বসবার ঘরে সোফা দেখা গেলো বটে কিন্তু কাপড় দিয়ে ঢাকা। কবির হারমোনিয়ামটির ওপর কয়েক পরতের ধূলা জমে আছে। এ ছাড়া সেকালের বাতি, একটি টানা পাখা, দরজায় ঝোলানো পর্দা, কবি পরিবারের বেশ কিছু ছবিও দেখেছিলাম। কবির শোবার ঘরে দুটি পালঙ্ক, এক কোণে দুটি টেবিল, আয়না, কাপড় রাখার আলনা, গুটিকয় চেয়ার, ইজি চেয়ার ইত্যাদি রাখা দেখলাম। এগুলো সবই কবির ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন। অথচ সেগুলো ভূমি অফিসের কর্মচারীরা ব্যবহার করছেন। এরপর ঘুরে ঘুরে দেখলাম কবির ব্যবহৃত একজোড়া খড়ম, নলসমেত হুঁকো, ফুলদানী, রান্না ঘরে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, কাপ পিরিচ, হট ওয়াটার পট, হট ওয়াটার ট্রে, লণ্ঠন, শতছিন্ন বালিশের ওয়াড়, মশারি আর লেপের ছিন্নবিচ্ছিন্ন ওয়াড়। হাসান আলীই সব দেখালেন এবং বললেনও অনেক কিছু।
মনে কষ্ট নিয়ে ঠাকুরবাড়ি থেকে পাবনা চলে এলাম। পরদিন একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ৮-১০ টি ছবিসহ পাঠিয়ে দিলাম। দিন দুয়েক পর ৮ টি ছবিসহ প্রতিবেদনটি ছাপা হলো।  প্রতিবেদনটি প্রশংসিতও হলো। আকাশবাণী (কলকাতা) থেকে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ পর্যালোচনা করলেন তিনদিন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার বিষয়টি ভালোভাবে নিল না। তাদের কুদৃষ্টি পড়ল ‘দৈনিক সংবাদ’-এর ওপর। হাইকোর্টে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলের মামলা হলো। তৎকালীন সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী ও সহকারী সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার চিঠি লিখে জানালেন, প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র নিয়ে ঢাকা হাইকোর্টে হাজির হতে। মামলায় পত্রিকার সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক ও প্রতিবেদককে আসামি করা হয়েছিল। আমি হাইকোর্টে হাজির হলাম। মামলার শুনানি শুরু হলে প্রমাণপত্র দেখালাম।  বিচারক মহোদয় কাগজপত্র দেখে মামলা খারিজ করে দিলেন। একইসঙ্গে ঠাকুরবাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে হস্তান্তরসহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হলো।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দায়িত্ব গ্রহণ করে শাহজাদপুর ঠাকুরবাড়িতে এলো। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ক আলোচনা হলো। তারা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িকে ‘রবীন্দ্রস্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ঘোষণা দিলেন। বলাবাহুল্য এ ঘোষণায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলাম। কারণ এর পেছনে কিছুটা হলেও আমি সেদিন অবদান রাখতে পেরেছিলাম- এটা ভেবে আজও আমার গর্ব হয়। এরপর থেকেই বাড়িটি নতুন করে সাজানো হয়। ইউরোপীয় ও রোমান স্থাপত্য ধারায় নির্মিত দ্বিতল বাড়িটিতে রবীন্দ্রস্মৃতির অনেক নিদর্শন রয়েছে।  প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রবি ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত অনেক ছবি নিচতলায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রবীন্দ্র সান্নিধ্যে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শেরে বাংলা ফজলুল হকসহ প্রথিতযশা ব্যক্তিদের ছবি আছে জাদুঘরে। কবির পারিবারিক অনেক ছবিও সেখানে আছে। আরও আছে কবির নোবেল সনদপ্রাপ্তি এবং শান্তি নিকেতনে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর সংবর্ধনার ছবি। এ ছাড়াও জাদুঘরে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি, পাণ্ডুলিপির ওপর তাঁর চিত্রাঙ্কন অনুশীলন এবং অনেক চিত্রকর্মের ছবি। তাঁর ব্যবহৃত খাট, সোফা, আলনা, আরাম কেদারা, ব্রোঞ্জ নির্মিত দ্রব্যসামগ্রী সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যা দেখে আজ অবধি মুগ্ধ হচ্ছেন।
লেখক : সভাপতি, পাবনা প্রেসক্লাব

সাময়িকী.কম

কলকাতা: কলকাতা যাওয়ার ভিসা হয়ে গেছে। এবার যাওয়ার পালা। কিন্তু কোন পথে কীভাবে যাবেন, কত খরচ- এসব নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর রয়েছে বাজেট ভাবনা। 

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু দরকারি তথ্য, যা আপনার যাত্রাপথের সহায়ক হবে।

প্রথমত আপনি যেতে পারেন স্থলপথে। অর্থাৎ, বাসে। তবে ভিসার সময় আপনাকে পাসপোর্টে অবশ্যই সেটা উল্লেখ করতে হবে। যদি বাসে করে সরাসরি কলকাতায় যেতে চান তাহলে আপনি ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সৌহার্দ্য, সোহাগে যেতে পারেন। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে।

যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই বাসগুলিতে রাতে বেনাপোল স্থল বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তাহলে প্রায় সতেরো ঘণ্টার জার্নি করে (মাঝে ইমিগ্রেশনে লাগবে কয়েক ঘণ্টা) বনগাঁ হয়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। ভাড়া পড়বে ১৪-১৭শ টাকার মতো।


চাইলে ট্রেনে চেপেও আসতে পারেন কলকাতায়। বিশেষ যারা রেলভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী’ এক্সপ্রেসে চড়ে বসতে পারেন।

মৈত্রী এক্সপ্রেস নামাবে সরাসরি কলকাতায়। গন্তব্য স্টেশনের নামও 'কলকাতা স্টেশন'। এটি উত্তর কলকাতার চিৎপুরে অবস্থিত। ৩শ ৯২ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে মোট সময় লাগবে কমবেশি ১২ ঘণ্টা। এর মধ্যে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে দুই দুই চার ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে আপনি এসি- নন এসি দু’ধরনের টিকিট পাবেন। ভাড়া আপনার সাধ্যের মধ্যে। জেনে রাখার ভালো, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়ার থেকে কম। ননএসিতে ভাড়া পড়বে ৬৬০ টাকা। আর এসি-চেয়ার ১১শ ৩৩ টাকা এবং বাথ ১৬শ ৫০ টাকা।

বাকি রইলো আকাশপথ। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড ছাড়াও আসতে পারেন জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনে। সময় লাগবে কমবেশি ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে।

মনে রাখবেন ইমিগ্রেশনে দালালদের ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের ইমিগ্রেশন ফর্ম নিজে পূরণ করুন। দরকার হলে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিন। আরও একটি বিষয় এ প্রসঙ্গে অবশ্যই মন রাখবেন। কারেন্সি পরিবর্তন করার জন্য এখানে কিছু দালাল আপনাকে নানা রকম ভয় দেখাতেও পারে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে থাকুন।


কেউ বলতে পারে ভারতে বাংলাদেশের কারেন্সি বা ডলার নিয়ে ঘুরলে আপনাকে ভারতীয় পুলিশ ধরতে পারে। এ কথা একবারে ভিত্তিহীন। যদি আপনি কারেন্সি ‘এনডোর্স’ করিয়ে নিয়ে থাকেন তবে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন অনুসারে আপনি যেকোনো জায়গায় কারেন্সি ভাঙাতে পারেন। কলকাতায় বেশ কয়েকটায় মানি এক্সচেঞ্জের দোকান আছে। ঘুরে ঘুরে নিজের ইচ্ছামতো দোকানে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করুন।

এবার আসি কম খরচে যাওয়ার বিষয়ে। এতো খরচ যদি আপনি না পোষাতে পারেন তাহলে ভিন্ন উপায়ও আছে। আপনাকে আসতে হবে ভেঙে ভেঙে। 

উঠে পড়ুন বেনাপোলগামী যে কোনো বাসে। ভাড়া লাগবে ৫শ টাকার মতো। তারপর বেনাপোলে ইমিগ্রেশন ও ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে হেঁটে পার হন নোম্যানস ল্যান্ড। এরপর প্রবেশ করুন হরিদাসপুরে (পেট্রাপোল) ভারতীয় ইমিগ্রেশন দপ্তরে। ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করুন।

এরপর অটোরিকশায় চলে যান বনগাঁ স্টেশন। ভাড়া নেবে ২৫ রুপি। এখানে চারজন হলে তবেই অটো ছাড়ে।

বনগাঁ স্টেশন নেমে ২০ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন শিয়ালদাহ স্টেশনে। যা উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। অথবা বনগাঁ থেকে ১৮ রুপির টিকিট কেটে নামতে পারেন দমদম। এখান থেকে মেট্রোয় ১০ রুপি টিকিট কেটে চলে যান পার্ক স্ট্রিট।

অচেনা রাস্তা বলে চিন্তা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে সাহায্য নিতে পারেন কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশের। তারা সব সময়য়ই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে।


ভাস্কর সরদার, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সাময়িকী.কম



বিশ্বের যে কয়েকটি জায়গা পর্যটকদের সবচেয়ে হাতছানি দিয়ে ডাকে, সম্প্রতি তারই একটি তালিকা তৈরি করেছে ‘লোনলি প্ল্যানেট’৷ দেখুন ছবিতে৷

আংকোর ভাট, কম্বোডিয়া
বিশ্বের অন্যতম ভ্রমণ-পত্রিকা ‘লোনলি প্ল্যানেট’ তালিকার প্রথম স্থানে রেখেছে কাম্বোডিয়ার উত্তরে সিয়েম রিপ শহরের আংকোর ভাটকে৷ দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত এই মন্দির বা মন্দিরগুচ্ছটি আজ একটি ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ বা বিশ্ব ঐতিহ্য৷ আদতে বিষ্ণু মন্দির হলেও, হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এখানে৷ চারিদিকে পরিখা বিশিষ্ট বিশাল এই স্থাপনার অসাধারণ ভাস্কর্য তাই আজও আপনাকে চমকে দেবে, জাগাবে শিহরন৷


গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল বরাবর প্রায় ১,৮৬০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত এই গ্রেট বেরিয়ার রিফ৷ এটি একাধারে একটি ন্যাশনাল পার্ক এবং হেরিটেজ সাইট৷ এখানে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর, হাজারো রকমের বাহারি মাছ আর সাদা তিমিসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী৷


মাচু পিচু, পেরু
পেরুর ভুবন বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মাচু পিচু পঞ্চদশ শতাব্দীর ইনকা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ধ্বংসাবশেষ৷ দক্ষিণ অ্যামেরিকার আদিবাসী মানুষদের ভাষা কেচুয়ায় মাচু পিচুর অর্থ হলো প্রাচীন পর্বতচূড়া৷ ইনকা রাজা ইউপানকি ২৩৬০ মিটার উচ্চতায় মাচু পিচুর ওপর তৈরি করান এক পূর্ণাঙ্গ শহর৷ আর তারই ধ্বংসাবশেষ দেখতে এখনও সেখানে ছুটে যান দূর দূরান্তের মানুষ৷ প্রায় তিন হাজার সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠেন তাঁরা৷


গ্রেট ওয়াল অফ চায়না, চীন
কথায় আছে, মহাশূন্য থেকেও দেখা যায় চীনের প্রাচীর বা গ্রেট ওয়াল অফ চায়না৷ তবে পৃথিবীর এই দীর্ঘতম প্রাচীর দেখে অবাক হননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বোধহয় কঠিন৷ ইঁট আর পাথর দিয়ে তৈরি এই প্রাচীর দৈর্ঘ্যে ২,৬৯৫ কিলোমিটার, উচ্চতায় ৪.৫৭ থেকে ৯.২ মিটার এবং প্রস্থে ৯.৭৫ মিটার৷ শোনা যায়, মাঞ্চুরিয়া আর মঙ্গোলিয়ার যাযাবর দস্যুদের হাত থেকে চীনকে রক্ষা করতেই তৈরি হয়েছিল এই গ্রেট ওয়াল অফ চায়না৷


তাজ মহল, ভারত
সাদা ধবধবে মার্বেল, আর তার ওপর রুবি, ফিরোজা, কোরাল, ক্যাটস আই, ব্লাড স্টোন দিয়ে অনন্যসুন্দর কারুকার্য৷ আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধের মতো রাজকীয় সমাধি, স্থাপত্যে রোম্যান্টিকতার এমন নিপুণ মুন্সিয়ানা আর বোধ হয় কোথাও নেই৷ মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী মুমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই সৌধটি নির্মাণ করেন৷ ১৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়ে ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চলে তাজমহল তৈরির কাজ৷


গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি গিরিখাত৷ এর বেশিরভাগ অংশই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্ক-এর ভেতরে পরেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম একটি জাতীয় উদ্যান৷ গিরিখাতটির মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কলোরাডো নদী৷ ৪৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১,৮০০ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছে তার অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য৷


কলোসিয়াম, রোম
বিশ্বের সপ্তমাশ্চর্যের একটি হলো ইটালির রোম শহরে অবস্থিত কলোসিয়াম৷ এটা মূলত ছাদবিহীন একটি মঞ্চ, যেখানে কমপক্ষে ৫০ হাজার দর্শক বসে গ্ল্যাডিয়েটরদের প্রতিযোগিতা, মানুষ ও প্রাণীদের নানা খেলা, প্রদর্শনী ইত্যাদি উপভোগ করতেন৷ এই কলোসিয়ামের কারণে রোম নগরীকে রক্ত আর হত্যার শহর বলেও ডাকা হতো এক সময়৷


ইগুয়াসু জলপ্রপাত, আর্জেন্টিনা/ব্রাজিল
কোনোদিন যদি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সীমান্তে বরাবর এগিয়ে যান, তখন দেখতে পাবেন এই জলপ্রপাত৷ ইগুয়াসু নদী যেখানে পারানা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে, তার ২৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এটি৷ পারানা মালভূমির ঢাল বেয়ে পাহাড়ি ঝর্ণাধারা নেমে এসে প্রায় ৭৩ মিটার নীচে পতিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই প্রাকৃতিক বিস্ময়৷ আকারে ইগুয়াসু কিন্তু নায়াগ্রা জলপ্রপাতের চাইতে বড়৷


আলহামব্রা, স্পেন
‘একগুচ্ছ পান্নার মাঝে যেন একটি মুক্তো’ – মুরিশ কবিরা এভাবেই বর্ণনা করেছেন গ্রানাডা শহরের শীর্ষ আকর্ষণ আলহামব্রার সৌন্দর্যকে! নবম শতকে দক্ষিণ স্পেনে নির্মিত একটি দুর্গের ভিত্তির ওপর এই দুর্গ-প্রাসাদের পত্তন ঘটান স্পেনের শেষ মুসলিম শাসকগোষ্ঠী, একাদশ শতাব্দীতে৷ বাইজেন্টাইন ও মুসলিম স্থাপত্যের পরম্পরায় তৈরি এ দুর্গ-প্রাসাদে স্থানীয় লাল মাটিতে ব্যবহার করা হয়৷ সে জন্যই এর নাম ‘আলহামব্রা’ বা ‘দ্য রেড’৷


আয়া সোফিয়া, তুরস্ক
ইস্তানবুলে অবস্থিত আয়া সোফিয়াকে তুর্কিরা বলেন হাজিয়া সোফিয়া বা সেন্ট সোফিয়া৷ ৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে নব্য-খ্রিষ্টান জাস্টিন এটি প্রতিষ্ঠিত করেন৷ পরে, ১৯৩৪ সালে, আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ক একে জাদুঘরে পরিবর্তিত করেন৷ সুলতান আহমেদ এলাকার মূল আকর্ষণই হচ্ছে আয়া সোফিয়া, যার জন্য প্রতিদিন হাজারো মানুষ জড়ো হন৷ ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনার তালিকায় স্থান পায় আয়া সোফিয়া৷


রফিকুল ইসলাম সাগর 
সাময়িকী.কম

কুয়ালালামপুরের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম বাতু কেভস। পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির, প্রায় পাহাড়সম এক সোনালী রংয়ের মূর্তি। মূর্তির পাশ দিয়ে উঠে গেছে সিড়ি পথ। চুনাপাথরে তৈরি এই পাহাড়ে ‘ভেল’ আকৃতির গুহামুখ দেখে আকৃষ্ট হয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ী কে থাম্বুসামী পিল্লাই মুরুগান দেবতাকে উত্সর্গ করে ১৮৯২ সালে সোনালী রংয়ের এই ১৪০ ফুট উঁচু মুরুগানের মূর্তিটি তৈরি করেন।

২৭২টি সিড়ি পার হয়ে ওপরে উঠলে মূলগুহা। মূর্তির পাশ দিয়ে উঠে যাওয়া সিড়ি পথের শেষে যে গুহামুখ, সেই গুহামুখের রহস্যময়তাই সবাইকে সেখানে টেনে নিয়ে যায়।



ভেল হচ্ছে মুরুগানের হাতের অস্ত্রসদৃশ দন্ডটি। চব্বিশ মিলিয়ন রুপি খরচ করে কংক্রিট ও স্টিলবারে নির্মিত এই মূর্তিটি সোনালী রঙ করার জন্য স্বর্ণ থেকে তৈরি তিন শ লিটার স্বর্ণালী রঙ থাইল্যান্ড থেকে আনানো হয়েছিল।


বাতু কেভস মূলত হিন্দুদের (তামিল ভাষাভাষিদের) ধর্মীয় তীর্থস্থান।

ছবি : রফিকুল ইসলাম সাগর 

ত থ্য বি চি ত্র

রফিকুল ইসলাম সাগর
সাময়িকী.কম

স্লোভেনিয়ার একটি শহরের নাম বেল্গড। এটি ইউরোপের কোনো শহর না হলেও দেখতে ইউরোপের শহরের মতোই। শহরটি বেল্গড লেকের সৌন্দর্যের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। বলা যায় বেল্গড লেক একটি পর্যটন কেন্দ্র। তাই এখানে সব সময় পর্যটকদের ভিড় থাকে। সৌন্দর্যের দিক থেকে বেল্গড লেক দেখতে ক্যামেরাবন্দি অনেক সুন্দর একটা ছবির মতো। লেকটির চারপাশে জুলিয়ান আল্পস পাহাড় ও লাস পিল্গন জঙ্গল। 

এ লেকের মাঝামাঝি অবস্থানে স্লোভেনিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক দ্বীপ। ছোট এ দ্বীপটিতে অল্প ক'টি বিল্ডিং আছে। এবং অল্প ক'জন শৌখিন মানুষ এ দ্বীপে বসবাস করেন। দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিল্ডিংটি একটি গির্জা। যার নাম পিল গ্রিমেজ। গির্জাটি পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্বীপটিতে ৫২ মিটার উঁচু একটি টাওয়ার আছে। 

টাওয়ারে ওঠার জন্য আছে বিশাল লম্বা সিঁড়ি। এই সিঁড়িটির সামনে এসেই জাহাজ, লঞ্চ, বোট ও নৌকা থামে। সিঁড়ির শেষ প্রান্ত গেছে টাওয়ারের ভেতরে এবং সিঁড়িটিই দ্বীপে প্রবেশ করার রাস্তা। পিল গ্রিমেজ গির্জাটি সবাই মূলত ব্যবহার করে বিয়ের জন্য। এই গির্জায় এসে বিয়ে করার মূল কারণ দ্বীপের সৌন্দর্য। সবাই সুন্দরভাবে নতুন জীবন শুরু করতে সুন্দর এ দ্বীপের গির্জায় এসে বিয়ে করে। বেল্গড দ্বীপ অনেক পুরনো বলেই পর্যটকদের এ দ্বীপটির প্রতি বেশি আকর্ষণ।


একাদশ শতাব্দীতে আরকোনজিস্ট নামক একজন নাবিক প্রথম এ দ্বীপটি আবিষ্কার করেন। ১১৪২ সালে পেট্রিজ পেলে গিনো নামের একজন এ দ্বীপটিতে একটি গির্জা নির্মাণ করেন। পঞ্চদশ শতাব্দীতে গির্জাটি আবার সংস্কার করা হয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে বড় ধরনের ভূমিকম্পে গির্জাটি ভেঙে যায়। পরে আবার নতুন করে গির্জাটি নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে গির্জাটি এখন পর্যন্ত টিকে আছে। বেল্গড লেকের পানি দেখতে খুব সুন্দর এবং পরিষ্কার, যা অন্যান্য দ্বীপের পানির মতো নয়। 




রফিকুল ইসলাম সাগর 
সাময়িকী.কম

ব্যক্তিগত একটা ঝামেলার কারণে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে গিয়েছিলাম। সেখানে বিকেলে পৌছে কাজ শেষ করে যখন ঢাকা ফেরার জন্য বাসে উঠলাম ঘড়ির কাটায় তখন রাত দেড়টা। চলন্ত বাসে বসে হুট করে বেড়ানোর নেশা জেগে উঠল। ইচ্ছে করছিল না ঘরে ফিরে যেতে। রাতের গভীরতার সাথে সাথে নিস্তব্দতা বেড়ে যায়। এই নিস্তব্দতা মানুষকে ভাবায়, ভাঙ্গা গড়ার হিসেব মিলায়। সিটে হেলান দিয়ে নানান কিছু ভাবতে ভাবতে শারীরিক ক্লান্তিতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম টেরই পেলাম না। ঘুম ভেঙ্গে বামে ডানে তাকিয়ে দেখি মহাখালী আমতলী সিগনাল অতিক্রম করছে বাস। কি পারফেক্ট টাইমিং! সামনের রেলগেইট মোড়ে নেমে এক কাপ চা পান করলাম। ঘরে ফিরে বিছানায় শুতেই আবার ঘুমিয়ে পরা বেড়ানোর নেশা নাড়াচাড়া দিয়ে জেগে যায়। কিভাবে কোথায় যাওয়া যায়! চোখ বন্ধ করলেই একটু একটু হিসেব মিলে তো মিলে না। একূল-ওকূল ভাবতে ভাবতে মিলল, যাব কোন কূল! রাতের বেলা বিছানায় ঘুমাতে গেলে আর প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে টয়লেটে গেলে এমন অনেক জটিল হিসেবই মিলে যায়।

সকালে কমলাপুর থেকে ট্রেনে চড়লাম। ট্রেনের গৌন্তব্য শেষ হবে নারায়ণগঞ্জ। খুব অল্প সময়ে লাস্ট ষ্টেশনে ট্রেন থামে। তবে ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ হয়নি। একটা ব্যাপার হয়তো সবার নজরে পরেছে যে, ট্রেন ঘন্টার পর ঘন্টা ষ্টেশনে অবস্থান করলেও ইঞ্জিনের ষ্টার্ট বন্ধ করা হয়না। কেন বন্ধ করা হয়না তার সুনির্দিষ্ট কারণ হয়তো অনেকেরই জানা নেই। আমি একবার এই প্রশ্নের উত্তর জেনেছিলাম। তা হলো, 'আমাদের ট্রেনগুলোর অধিকাংশ ইঞ্জিনই নাকি মেয়াদউত্তীর্ণ আর তাই স্টার্ট বন্ধ করলে পূনরায় স্টার্ট করতে অনেক ঝামেলা।' তবে এটা পুরোপুরি সত্য কিনা যাচাই করিনি। যাই হোক ট্রেনের ইঞ্জিন নিয়ে আর কথা না বাড়িয়ে মূল গল্পে আসি। নারায়ণগঞ্জ রেল ষ্টেশন থেকে বেরিয়ে 'বন্দর' লঞ্চ ঘাটে প্রবেশ করলাম। এবার কোন লঞ্চে কোথায় যাব সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলাম না। দিনে গিয়ে আবার রাত ১০টার মধ্যে বাড়ী ফিরতে পারব এমন কোথায় যাব। ঘাট থেকে খোজ খবর নিয়ে চাদপুরগামী একটি লঞ্চে উঠলাম। লঞ্চটি খুব বড় না (নারায়ণগঞ্জ থেকে চাদপুরগামী লঞ্চগুলো সাধারণত ছোটই হয়)। এখান থেকে চাদপুর যেতে সময় লাগে চার ঘন্টা। আমি ঠিক করলাম, মধ্যপথে কোনো ঘাটে লঞ্চ ভিড়লে সেখানে নামব। লঞ্চে চড়ে এমন একটু ফাঁকা জায়গা খুচ্ছিলাম যেখানে দাড়িয়ে নদী ভ্রমণের পুরো স্বাদ পাওয়া যাবে। কিন্তু এমন প্রতিটি কোনা-কাঞ্চি আগেই দখল করে রেখেছে যাত্রীরা। লঞ্চের পিছন সাইডে ইঞ্জিনের পিছনে একটু ফাঁকা পেয়ে প্রথমে দাড়ালাম। লঞ্চ ছাড়ার পর শব্দের কারণে জায়গাটি ত্যাগ করতে বাধ্য হলাম। আমার আগেই বুঝা উচিত ছিল যে, এই জায়গাটি ফাঁকা থাকার পিছনে অবশ্যই কোন কারণ আছে। সরে গিয়ে লঞ্চের দো'তলার বারান্দায় অন্য একজন যাত্রীর পিছনে দাড়িয়ে একটু ফাঁকা পেয়ে উকি দিয়ে রইলাম। সামনের জন বারবার আমার দিকে পিছন ফিরে তাকাচ্ছিল। তার চাহনিতে বুঝতে পারছিলাম এভাবে তার পিছনে ভড় করে দাড়ানো তার বিরক্তির কারণ। বুঝতে পারলেও কিছু করবার নাই, এখানে স্বার্থপরের মতো আচরণ করলাম। ব্যাহায়ার মতো লোকটার পিছনে তার গায়ে ভড় করে দাড়িয়ে রইলাম। লোকটিকে বিরক্ত করতে ইচ্ছে করে তার উপর বেশি ভড় দিচ্ছিলাম। একটুপর লোকটি সরেই গেলেন। আমি ভালোভাবে দাড়ানোর জায়গা পেলাম।

সম্ভবত সর্বোচ্চ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল লঞ্চটি। হটাত করে স্প্রিড একটু কমে গেল। বুঝতে পারলাম চালক গতি কমিয়েছে। তখন বামে-ডানে ও সামনে পিছনে আরো অসংখ্য লঞ্চ, টলার, নৌকা, স্টিমারের আনাগোনা ছিল। এ কারণেই চালক গতি কমিয়ে দেয়। নয়তো দূর্ঘটনা ঘটতে পারত। সেই মুহুর্তে আমার মনে হয়েছে একেই বুঝি বলা হয়, নৌ-পথে যানজট। এ জট পেরিয়ে চালক আবার লঞ্চের গতি বাড়িয়ে দেন। প্রায় বিশ মিনিট পর লঞ্চ 'গজারীয়া' লঞ্চ ঘাটে ভিড়ানো হলো। কিছু যাত্রী নামল, তার চেয়ে বেশি যাত্রী উঠল। দুই মিনিটের মধ্যেই লঞ্চ আবার ছাড়ল। আরো ঘন্টা খানেক পর পৌছলাম 'ষাটনল' লঞ্চ ঘাটে। এখানে নেমে গেলাম। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে লঞ্চে পৌছতে সময় লাগল দেড় ঘন্টা। ঘাট থেকে কাঠের সাকো গিয়ে ঠেকেছে বাজারে। সাকো যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে একটু সামনেই দেখতে পেলাম অসংখ্য মোটর সাইকেল। সামনে এগোতেই একে একে ক'জন এগিয়ে এসে প্রশ্ন করলেন ভাই কোথায় যাবেন! বুঝতে পারলাম এরা মোটর সাইকেলের চালক। সাথে জানলাম এখানে যাতায়াতের মাধ্যম মোটর সাইকেল আর ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা। এখান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানলাম, এখান থেকে বেলতলী লেংটার মেলায় যাওয়া যায়। ঠিক করলাম সেখানেই যাব। একজন মোটর সাইকেল চালকের পিছনে চেপে বসলাম। আমার পিছনে উঠল আরেকজন যাত্রী। চালকসহ মোট তিনজন। ঠিক হলো আমার ভাড়া দিতে হবে ৭০ টাকা। ত্রিশ মিনিটে বেলতলী পৌছলাম। মোটর সাইকেল চালানোর স্টাইলে যা ভয় পেয়েছিলাম। মনে হয়েছে চালক উড়িয়ে নিয়ে এলো।এতো দক্ষ মোটর সাইকেল চালক আমি আর দেখিনি। বেলতলী লেংটার মেলা প্রবেশের মূল গেইটের সামনে শুরুতেই দেখলাম গামছার দোকান। এরপর আগরবাতি, মোমবাতিসহ অন্যান্য দোকান। একটি দোকান থেকে পানির বোতল কিনতে গিয়ে জানলাম, এখানে সব পণ্য মূল্য যা লেখা আছে তার চেয়ে দুই টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হবে। যাই কিনেন দুইটাকা বেশি। এমনকি মোবাইলে একশ টাকা রিচার্জ করলেও দুইটাকা বেশি দিতে হবে। লেংটার মেলা নামে খ্যাত হযরত সোলেমান শাহ (র:)-এর মাজারের মূল ভবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ চলছিল দেখলাম। সেদিন ভক্তদের আনাগোনা একেবারেই দেখলাম না। হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন চোখে পরেছিল। ক;জন ভক্তদের দেওয়া তথ্য মতে,

'সোলেমান শাহ উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান আউলিয়ার দাবিদার। তিনি পোশাক পরিধান করতেন না আর তাই তিনি লেংটা বাবা নামেও পরিচিত। তার জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন মতলবের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিয়ে করেছিলেন নারায়ণগঞ্জে। সারাদেশ ঘুরে বেড়ালেও মতলবের বেলতলীতে বেশিরভাগ সময় থাকতেন। ওরসের সময় এই বেলতলীতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। আশে-পাশের কয়েক গ্রামজুড়ে ভক্ততের অবস্থান থাকে। কয়েক বর্গকিলোমিটার জুড়ে বসে ভান্ডারী, মারফতী ও বাউল গানের আসর। এছাড়া প্রতি বৃহস্প্রতিবারও গানের আসর জমে। অনেকে এ আসরকে লেংটার মেলা, পাগলের আসর, পাগলের মেলাও বলে।'

বেলা তিনটায় দুপুরের খাবার খেয়ে আরেকটি মোটর সাইকেলে চড়ে ষাটনল ঘাটে যাই। বাজার থেকে ঘাটে একটি লঞ্চ দেখতে পেয়ে দিলাম দৌড়....। কাঠের সাকো পেরিয়ে ঘাটের ভেতর ঢোকার আগেই লঞ্চটি ছেড়ে দেয়। আমি উঠতে পারলাম না। ত্রিশ মিনিট পর নাকি আবার আরেকটি লঞ্চ আসবে সবাই বলাবলি করছিল। একবার দাড়িয়ে একবার ওয়েটিং রুমে বসে এভাবে করে ত্রিশ মিনিটের অপেক্ষা। কিন্তু ত্রিশ মিনিট পেরিয়ে চল্লিশ মিনিট হলেও নারায়ণগঞ্জ গামী লঞ্চ এলো না। এরমধ্যে দুটি লঞ্চ এলেও সেগুলো ছিল চাদপুর গামী। ঘাট থেকে দাড়িয়ে দূর-দূরান্তে দেখতে পাওয়া লঞ্চ দেখে মনে হয়েছে, এটিই বুঝি এখানে থামবে। কিন্তু কাছে আসতেই সামনে দিয়ে চলে যায়। ঘাটে না থেমেই। ওগুলো নাকি ডাইরেক বরিশালগামী বড় লঞ্চ। বরিশালের আগে কোথাও থামব না। এই ঘাটে কিছু সময়ের অপেক্ষায় জানলাম- এ ঘাটে নির্দিষ্ট লঞ্চ ছাড়া অন্যান্য লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকা ভিরলেই জরিমানা দিতে হবে। 

বিকেল চারটা বেজে ত্রিশ মিনিটে লঞ্চে উঠি। এই লঞ্চের ছাদে উঠার সুযোগ পেলাম। তবে ছাদে যাত্রী সংখ্যা কম ছিল। এককোণে লোহার গ্রিলে বসলাম। চলন্ত লঞ্চ থেকে বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। ভয়ে গ্রিলে শক্ত করে ধরে রাখলাম। কিছুক্ষণ পর অবশ্য ভয় কেটে যায়। তখন কিছু দৃশ্য ক্যামেরা বন্দী করতে ব্যস্ত হয়ে পরলাম। এর মধ্যে একজন টিকেট হাতে ভাড়া চাইল। বিশ টাকা ভাড়া মিটিয়ে টিকেট বুঝে নিলাম। কেটে যাচ্ছিল রোমাঞ্চকর মূহুর্ত। এরই মাঝে একজন ডিস্টার্ব করতে চলে এলো বলল, ছাদ থেকে নামতে হবে। একে একে উপরের সবাই নামতে শুরু করে। সবাই নেমে যাওয়ার পর রইলাম বাকি আমি। কোনরকমের চালাকি কাজে আসল না। একটু পরে নামতে চাইলে লোকটি বলল, সমস্যা আছে। অহন নামেন। কি সমস্যা পাল্টা প্রশ্ন করলাম? 'নারায়ণগঞ্জ আইয়্যা পরছি। ছাদে লোক নিসি দেখলে আমগো লঞ্চের জরিমানা করব।' এমন উত্তরে কথা না বাড়িয়ে ছাদ থেকে নেমে গেলাম। তার কয়েক মিনিট পরেই বন্দর লঞ্চ ঘাটে পৌছালাম। নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনে গিয়েই ঢাকাগামী একটি ট্রেন দাড়িয়ে থাকতে দেখে খুশি হয়ে যাই। ভাবলাম মিনিট কয়েকের মধ্যেই ট্রেন ছাড়বে। ঘড়ির কাটায় সন্ধা ছয়টা বেজে দশ মিনিট। অপেক্ষা করতে করতে ট্রেন ছাড়ল, আটটার কয়েক মিনিট আগে। 


রফিকুল ইসলাম সাগর 
সাময়িকী.কম
ছবি : রফিকুল ইসলাম সাগর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মালয়েশিয়াকে পাহাড়ের দেশই বলা চলে। এই দেশটির প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই চোখে পরবে পাহাড়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই মূলত বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের সেখানে বেড়াতে যেতে আকর্ষণ করে। দু'পাহাড়ের মাঝে নিরিবিলি আকাবাঁকা পিচঢালা পথ-, ছবিতে দেখা এমন দৃশ্যের ছবির মতো একটি দেশ মালয়েশিয়া। আমি ভ্রমন প্রিয় একজন মানুষ। বেড়ানো আমার চরম নেশা। প্রবাস জীবনের কর্ম ব্যস্ততার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আমার বেড়ানোর অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেক ভারী। তাই মুখে বলে অথবা লিখে প্রকাশ করতে গেলে অনেক দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। এই লেখায় জানাচ্ছি মালয়েশিয়ার পাহাড়ে বেড়ানোর কিছু অভিজ্ঞতার কথা। 

মালয়েশিয়ার যেখানেই আমি গিয়েছি পাহাড় দেখেছি। চলা ফেরায় সময় অধিকাংশ পথ গুলোই যেন ইতিহাসের সাক্ষী দেয় যে, এখানেও পাহাড় ছিল। মালয়েশিয়ান ক'জন বন্ধু-বান্ধব সূত্রে জেনেছি, দেশটির যতসব আধুনিকায়ন তার বেশি অংশই পাহাড় ধ্বংশ করে করা হয়েছে। বিশেষ করে সড়ক পথ ও রেলপথ।
রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে এক ঘন্টার পথ 'গ্যানতিং হাইল্যান্ড'। এটি একটি জায়গার নাম। জায়গাটি ছয় হাজার ফুট উচু পাহাড়ের উপর। সেখানে যাওয়া যায় দুইটি উপায়ে। গাড়িতে অথবা ক্যাবল কারে। পাহাড় কেটে ঘুরানো পিচঢালা পথে একটু একটু করে গাড়ি চুড়ায় উঠে। গাড়ি থেকে নামলে সেখানে মেঘ ছুয়া যায়। এবং প্রয়োজন হয় শীতের কাপড়ের। এছাড়া ক্যাবল কারে চড়েও চূড়ায় যাওয়া যায়। ক্যাবল কারে চড়ে যাওয়ার স্বাদ পুরোই অন্যরকম। চূড়ায় যেতে ক্যাবল কার ব্যবহার না করলে রোমাঞ্চকর, এডভেঞ্চার অনুভূতি মিস করতে হবে। এ এলাকায় ক্যাবল কার ও বাস চলাচল সন্ধা সাতটার পর বন্ধ হয়ে যায়। তারপর সকাল আটটা পর্যন্ত নিজস্ব গাড়ি না থাকলে যাওয়া-আসার মাধ্যম ট্যাক্সিক্যাব। 
গ্যানতিং হাইল্যান্ডে 'হোটেল গ্যানতিং'- এর ভেতর ক্যাসিনো (জুয়ার আসর)। হোটেল গ্যানতিং একটি ফাইভ ষ্টার হোটেল। এখানকার ক্যাসিনো বিশ্বের নামকরা ক্যাসিনোর একটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কেউ কেউ মালয়েশিয়া আসেন শুধু এই ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতে। লোক মুখে শুনেছি, মুসলিম দেশে এমন একটি ক্যাসিনো বসানোর জন্য মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাতির মোহাম্মদকে অনেক তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল। বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানরা তাকে হুশিয়ার করেছিলেন। তাকে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু মাহাতির মোহাম্মদ কোন কিছুর পরক্কা না করে তার কাজ তিনি করে গেছেন। ক্যাসিনোতে সর্বসাধারণের প্রবেশের অনুমতি থাকলেও মুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ। এক্ষেত্রে মুসলিম বিদেশী পর্যটকদের জন্য ছাড় থাকলেও মালয়েশিয়ান মুসলিমদের জন্য নেই। ক্যাসিনোতে প্রবেশ করার সময় গেইটে পুলিশকে পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয় পত্র দেখাতে হয়।  'হোটেল গ্যানতিং'- এর ছাদের উপর বড় অক্ষরে লাইটিং করে লেখা ৬০০০। মানে বুঝানো হয়েছে ছয় হাজার ফুট উচ্চতা। গ্যানতিং হাইল্যান্ডে এছাড়াও আছে থিম পার্ক ও শপিংমল। পাশাপাশি বিশাল অংশজুড়ে অন্যান্য এলাকার মতো বসবাসকারীদের ঘর বাড়ী। এখানে জীবন-যাপন খরচ অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। 

বিশ্ব বিখ্যাত মালয়েশিয়ার 'কে এল সি সি'-তে অবস্থিত টুইন টাওয়ার। এটি যেখানে দাড়িয়ে আছে সেখানেও নাকি টুইন টাওয়ার নির্মানের পূর্বে পাহাড়-জঙ্গল ছিল। পাহাড়-জঙ্গল ধ্বংশ করে দাড় করানো হয়েছে টুইন টাওয়ার। এ টুইন টাওয়ারের আরেক নাম পেট্রোনাস টাওয়ার। মালয়েশিয়ায় সর্ববৃহৎ তেল ও গ্যাসের কোম্পানির নাম পেট্রোনাস। মালয়েশিয়ায় সর্ববৃহৎ মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ম্যাক্সিস ও পেট্রোনাস যৌথভাবে নির্মান করেছে টুইন টাওয়ার। টুইন টাওয়ারের পাশেই ম্যাক্সিস টাওয়ার। 

পাহাড় গুলো জড়িয়ে মালয়েশিয়ায় অসংখ্য পার্ক রয়েছে। এগুলোর ভেতরে গেলে নানান জাতের গাছ-গাছালি এবং বানর দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু পার্কে প্রবেশ করতে টিকেট লাগে, কিছু পার্কে লাগেনা। তবে অধিকাংশ পাহাড় এমনিতেই পরে আছে। সেখানে লোক সমাগম নেই। পাহাড়ের বুকে আকাশ ছুই ছুই গাছ। 
পার্ক গুলোর ভেতর সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ডমিরণ ফলের গাছ। এ ফলটি দেখতে কাঠালের মতো। তবে কাটা গুলো কাঠালের চেয়ে আরো লম্বা লম্বা। ভেতরে কোষ গুলোও কাঠালের মতো। তবে কোষ গুলোর সাইজ অনেক বড় বড়। পাহাড়ে বসবাসকারী বানর গুলো মানুষের সাথে খুব মিশুক প্রকৃতির। জনসম্মুখে বেরিয়ে এলেও তারা কোনো ক্ষতি করেনা। এদেশের মানুষও তাদের কোনো ক্ষতি করেনা। আমি লক্ষ্য করেছি, বন্যপ্রাণী শিকার এবং বনের গাছ-গাছালি কাটা থেকে এদেশের মানুষ পুরোপুরি বিরত। তারা দুটোর প্রতি যত্নবান এবং সচেতন। 

মালয়েশিয়ায় এতো এতো পাহাড়, বন-জঙ্গল। এসব দেখে প্রায়ই প্রশ্ন আমার মাথায় ঘোরপাক করত! এর ভেতরে কোন কোন প্রাণী আছে? নিরিবিলি পাহাড়ি জঙ্গলের পাশ কেটে হেটে যাওয়ার সময় মাঝে মাঝে মনে হতো, সিনেমার মতো এই বুঝি জঙ্গলের ভেতর থেকে জংলি বেরিয়ে আসবে। তবে বাস্তবে কোনদিন জংলি বেরিয়ে আসেনি। দেখে শুনে যতটুকু জেনেছি, মালয়েশিয়ার অধিকাংশ পাহাড়ি জঙ্গল গুলোর ভেতর প্রাণীর মধ্যে আছে বানর ও সাপ। এছাড়া বন্য গরু, মায়া হরিণ, বন্য মুরগী। তবে বানর ও সাপই বেশি। মালয়েশিয়াতে চাইলেই খাওয়ার জন্য মায়া হরিণ কিনতে পাওয়া। প্রবাসী বাঙালি বসতির সংখ্যা যেখানে বেশি সেখানে প্রায়ই দেয়ালে দেয়ালে লাগানো বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ে। যাতে লেখা থাকে, 'নির্দিষ্ট দিন নির্দিষ্ট জায়গায় হরিণ জবাই করা হবে।' সেখানে ক্রেতাদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। 

মালয়েশিয়ার কুয়ানতাং নামক একটি অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত ধার্মিক। নারীরা অত্যন্ত পর্দাশীল। এ অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে একটি করে বাহিনী আছে। কিছুটা সৌদির মতই সেখানের আইন-কানুন ও বিচার ব্যবস্থা। কর্মের সন্ধানে কুয়ানতাং থেকে কুয়ালালামপুরে আসা আমার এক মালয়েশিয়ান বন্ধুর নিকট এসব তথ্য জেনেছিলাম। 
কুয়ানতাং অঞ্চলের কিছু কিছু পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর নাকি এমন জাতের মানুষ থাকে যাদের জীবন-যাপন অনেকটাই জংলীদের মতো। তারা জঙ্গলের ভেতর থেকে বের হয়না। দৈনন্দিক জীবনের সকল চাহিদা তারা জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে পূরণ করেন। 
সনটা ঠিক মনে নেই সেবার নাকি এ জাতিদের খুঁজে বের করে ধরে কুয়ালালামপুর এনে ভোটার করা হয়েছিল। জাতীয় পরিচয় পত্রও দেয়া হয়। তাদের জীবন-যাপন পরিবর্তনের জন্য কর্মসংস্থান-বাসস্থানের ব্যবস্থা করে সরকার। তার মধ্যে অনেকেই তাদের জীবন-যাপন পরিবর্তন করে নতুন জীবন গ্রহণ করেন। অনেকে পূনরায় ফিরে গিয়েছেন আগের জীবনে। তাদের নাকি ওভাবেই জীবন-যাপন ভালো লাগে। 

আগেই বলেছি মালয়েশিয়া নিয়ে বলে অথবা লিখে যদি প্রকাশ করতে চাই সেটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। তাই আজ এ পর্যন্তই থাক। আরো অভিজ্ঞতা শেয়ার করব অন্য আরেক লেখায়। সবার মতামত পেলে লেখায় উত্সাহিত হব।  

ভিসা পেতে
মালয়েশিয়ার ভ্রমণ-ভিসা পেতে সময় লাগে তিন কার্যদিবস। ভ্রমণ-ভিসা পেতে মালয়েশিয়া হাইকমিশনে যেতে হয় না। নির্ধারিত ট্রাভেল এজেন্সিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট, বিমান টিকিট, ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকার লেনদেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, চাকরিরত হলে প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র, ব্যবসা করলে ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি, ছাত্র হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতিপত্র ইত্যাদি জমা দিতে হবে। এর জন্য ট্রাভেল এজেন্সিকে ভিসা ফিসহ দিতে হবে এক থেকে দুই হাজার টাকা।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা-কুয়ালালামপুর ফ্লাইট আছে প্রতিদিন। যাওয়া-আসা বিমান ভাড়া মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস: ৩৮ হাজার টাকা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস: ২৮ হাজার টাকা।



সাময়িকী.কম
আটলান্টিস, দুবাই

আটলান্টিস, দ্যা পামঃ দুবাই এর সাগর থেকে উদ্ধারকৃত জমিতে নির্মিত 'পাম জ্যুমেইরাহ' তে অবস্থিত। কাল্পনিক তলিয়ে যাওয়া দেশ আটলান্টিসের আদলে এই রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এতে মরুভূমি ও আরবী বিষয়গুলির দিকে কড়া নজর রাখা হয়েছে। এর মালিক যৌথ ভাবে ক্রেঞ্জার ইন্ট্যারনাশনাল হোল্ডিংস লিমিটেড ও লিস্থিথমার। উদ্ভোধন হয় ২৪ সেপ্টম্বর ২০০৮।

প্রায় ৪৬ হেক্টর বা ১১০ একর জায়গায় ফাইভস্টার রিসোর্টটি ছেলে বুড়ো সবাইকেই সমানভাবে আকর্ষন করে। এর মধ্যে ১৭ হেক্টর বা ৪২ একর ব্যাপী ওয়াটার পার্ক যাতে ৭ টি ওয়াটার স্লাইড ২.৩ কিলোমিটার নদী ভ্রমনের সুযোগ রয়েছে, রয়েছে টাইডাল ওয়েভ, র‌্যাপিড প্রত্যক্ষ করার সুবিধা। মেসোপটিমিয়ান স্টাইলের যিগারুট টেম্পল ৩০ মিটার থেকে সাতটি হৃদস্পন্দন বন্ধকারি ধাপ পার হয়ে হাংগর ভর্তি এক ল্যাগুনে এসে শেষ হয়। এটাকে লস্ট চেম্বার বলা হয়। এখানে ৬৫ হাজার মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণি রয়েছে। পাশেই আছে দ্যা এম্বাসাডর ল্যাগুন এখানে ১১ মিলিয়ন লিটার পানিতে সামুদ্রিক আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে। ৪.৫ হেক্টর বিশিষ্ট স্টেট অফ দ্যা আর্ট ডলফিন এ্যডুকেশন ও কঞ্জারভেশন হয়েছে, যেখানে সাধারন লোক ডলফিনের সাথে সাঁতারে অংশ নিতে পারে।
এটি ফ্লোরিডার ডিজনীওয়ার্ল্ডের আদলে তৈরী।

সাময়িকী.কম
 ভারতের আগ্রায় তাজমহল পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ছবি : এএফপি

সাময়িকী ডেস্ক : ঐতিহাসিক তাজমহল পরিদর্শন করেছেন ভারত সফররত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সপ্তদশ শতকে নির্মিত অমর প্রেমের স্মৃতিস্তম্ভে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন রাষ্ট্রপতি। 

শনিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভারতে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে আগ্রা পৌঁছেছেন। রাষ্ট্রপতি ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে আগ্রার উদ্দেশে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর ত্যাগ করে। দুপুর ১টায় তিনি আগ্রা খেরিয়া বিমানবাহিনীর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। 

আগ্রার বিভাগীয় কমিশনার এবং অন্য সরকারি কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাষ্ট্রপতিকে ওবেরিও আমরভিলাসে নিয়ে যাওয়া হয়। আগ্রা সফরকালে রাষ্ট্রপতি এখানেই অবস্থান করবেন। তাজমহল পরিদর্শনকালে ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাজমহল সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। পরে রাষ্ট্রপতি তাজমহলের পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি মোগল যুগের অন্যতম স্থাপত্য সৌন্দর্য আগ্রা ফোর্ট পরিদর্শন করেন। 

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সেখানে ফতেপুর সিকরি পরিদর্শন করবেন। আগামীকাল সোমবার সকালে তিনি জয়পুরের উদ্দেশে আগ্রা ত্যাগ করবেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে গত ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ভারত সফরে যান। সূত্র : বাসস

সাময়িকী ডেস্ক, সাময়িকী.কম: বগুড়ার মহাস্থানগড়ে খনন করে পাওয়া গেছে দুই হাজার দুইশ বছর আগের তিনটি পাতকুয়া বা রিঙ ওয়েল। এছাড়াও মিলেছে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার্য কিছু সামগ্রী, সড়কপথের অংশবিশেষ এবং পোড়া মাটির বিভিন্ন ফলক। গত ১ নভেম্বর থেকে ১৮তম খনন কাজ শুরু হয়েছে। কাজ চলবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত।
পাতকুয়া সম্পর্কে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, মধ্যযুগে দুর্গনগর ও এর আশপাশের এলাকায় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথভাবে অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। 

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের বগুড়া আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহাস্থান দুর্গনগরীর মাঝামাঝি এলাকা লইয়েরকুড়ি বা ফ্রান্সমাঠ নামে পরিচিত ভিটায় এই খনন কাজ চালানো হচ্ছে। এই ভিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে বৈরাগীর ভিটা, দক্ষিণ পাশে পরশুরাম প্যালেস ও জিয়তকুণ্ডু, পূর্ব পাশে শিলাদেবীর ঘাট এবং উত্তর ও পশ্চিম পাশে উন্মুুক্ত মাঠ অবস্থিত। এবারের খননে সেখানে বেরিয়ে এসেছে মধ্যযুগের (খ্রিস্টপূর্ব প্রথম অব্দ থেকে শুরু করে সপ্তম শতাব্দী) প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যের নিদর্শন। উত্তর-দক্ষিণে পাশাপাশি ৬ বর্গ মিটার আকৃতির দুটি স্থান এবার খননের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরপাশের স্থানে প্রাচীন আমলের ইট দিয়ে নির্মিত দেয়ালের পাশে একটি পাতকুয়া এবং বেশ কিছু মৃৎপাত্র ও ঢাকনা, দক্ষিণ পাশের স্থানে একই জায়গায় গা-লাগোয়া দুটি পাতকুয়ার সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে একটি ইটের দেয়াল কেটে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরটির চারপাশে ইটের গাঁথুনি দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। এর পাশে একটি চলাচলের রাস্তার সন্ধান পাওয়া গেছে।

এবারের খনন কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফ্রান্স ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্সের সদস্য ও প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. জঁ ফ্রাসোয়া সালস্। খনন কাজ তত্ত্বাবধান করছেন ফ্রান্সের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক ভিনসেন্ট লাফেবরি। আর তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন খনন বিশেষজ্ঞ কলিন লাফেবরি, শিল্পকলা ও ইতিহাসের শিক্ষক মেরি ফ্রাসোয়া বুসে, মূর্তিতত্ত্ববিদ সুজান ও ফ্রান্সের শিক্ষার্থী অ্যালবো। এ ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে খনন কাজে অংশ নিয়েছেন রংপুর জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান সঞ্জয় কুমার রায় ও খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান শাহীন আলম। সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান সাদেকুজ্জামান।

সাময়িকী.কম
চীনের উত্তর পশ্চিমে গানসু প্রদেশে বিখ্যাত সিল্ক রোডের কাছে একটি বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। মন্দিরটি মেইথজিসান কেইভ নামে পরিচিত। মন্দিরটি পাহাড়ের গুহায় অবস্থিত। তিয়ানশুই শহরের মেইথজিসার পাহাড়ের গায়ে ১৯৪ টি গুহা তৈরি করে এই বুদ্ধ কমপ্লেক্সটি নির্মান করা হয়। এখানে রয়েছে ৭২০০ টি বুদ্ধ মূর্তি। আর ১০০০ মিটার দেয়াল জুড়ে রয়েছে নানারকম দেয়ালচিত্র। এই গুহামন্দিরটি খুব একটা পরিচিত নয়। কম লোকই জানে এ বিষয়ে। বুদ্ধ ধর্ম যাজকরা এখানে বাস করতে পছন্দ করেন। নীরবে ঈশ্বরের প্রার্থনা করেন, তপস্যা করেন।
এই সম্পর্কে ইতিহাসে খুব একটা তথ্য পাওয়া যায় না। কারা এটা নির্মান করেছিলেন, কোন যুগে, কখন এটি নির্মান হয়, তার সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায় না খুব একটা। তবে এখান থেকে উদ্ধার করা সামগ্রী, পেইন্টিংস ও ক্যালিওগ্রাফি থেকে ধারণা করা হয় চতুর্থ শতাব্দী থেকে এখানে বুদ্ধ ধর্মগুরুরা নীরবে ধর্মচর্চা করার জন্য এই স্থানটিকে বেছে নেয়।
১৯৫৩-৫৪ সালে বেইজিং এর প্রত্নতাত্ত্বিকরা এটিকে আবিষ্কার করে। এখানে তাংহোঙ্গা ও হুয়ানগাঙ্গ নামক দুই ধর্ম যাজকের আত্মজীবনী পাওয়া গেছে। গুহার ভেতরের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তির উচ্চতা ১৬ ফুটেরও বেশি।
আর বাইরের মূর্তিগুলোর উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুটের মতো।
মুর্তিগুলোর কাছে যাবার পাহাড়ের গা ঘেষে ঘোরানো সিড়িগুলো আগে কাঠের ছিল, পরে নিরাপত্তার জন্য ওগুলোতে ধাতব সাপোর্ট দেয়া হয়। বৌদ্ধ সন্যাসীরা অনেকেই সেখানে এখনো থাকেন, ধর্মচর্চা করেন।

সাময়িকী.কম
মান্ডু বা মান্ধবগড় বর্তমানে একটি বিলুপ্ত শহর। ভারতের মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাংশে মালওয়া অঞ্চলে এটি অবস্থিত। জেলাশহর ধর থেকে এর দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। বিন্ধ্যপর্বতমালার শিখরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক দুর্গনগরী মান্ডুই ছিলো একসময় পৃথিবীর বৃহত্তম দুর্গ। ঐতিহাসিকদের মতে ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম দিকে নির্মিত হয়েছিলো মান্ডু দুর্গ। প্রথমে এর নাম ছিল মণ্ডপ দুর্গ। মণ্ডপ থেকে হয় মাণ্ডব। তারপর মান্ডু।
দুর্গটি প্রায় ৪৫ বর্গমাইল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। রয়েছে ১২টি প্রবেশদ্বার। প্রধান প্রবেশদ্বারটি দিল্লি দরওয়াজা, এরপরেরটি আলমগির দরওয়াজা আর শেষেরটির নাম ভাঙ্গি দরওয়াজা৷ অসাধারণ নির্মানশৈলীর সাক্ষ্যবহনকারী সুন্দর এই দুর্গকে মুসলমান ঐতিহাসিক গুলাম ইয়াজদানি অভিহিত করেছিলেন 'শারাংপুর' বা 'আনন্দের শহর' বলে।
রূপমতী প্যাভেলিয়ন
যুগের পর যুগ ধরে সুলতান, সম্রাট, রাজা, মহারাজারা তাদের রাজত্বকালে মান্ডুকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। নির্মাণ করেছেন একের পর এক অসামান্য স্থাপত্যকীর্তি। ৭৫টি ঐতিহাসিক সৌধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মান্ডুর নানান জায়গায়। মান্ডুতে ইতিহাস ও ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছে বিভিন্ন স্থাপনা। আগেই বলেছি ১২ টি দরওয়াজা রয়েছে এই দুর্গের। প্রধান প্রবেশদ্বারটি দিল্লি দরওয়াজা। দরওয়াজা বা গেইটগুলো বহন করছে সে সময়ের নির্মাণশৈলীর স্বাক্ষর।
মান্ডুর সেরা স্থাপত্যকীর্তি হচ্ছে জাহাজমহল। ১৩৬৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন সুলতান গিয়াসউদ্দিন খিলজী৷ সুলতান গিয়াসুদ্দিন খিলজী তৈরি করেন জাহাজমহল। মহলের দুই দিকে দুই জলাশয়- একদিকে মুঞ্জ তালাও ও অন্যদিকে কাপুরতালাও৷ দ্বিতল বিশাল প্রাসাদের টেরেসে দাঁড়িয়ে দুপাশে দুটি লেকের জলে তাকালে মনে হবে একটি জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে আছেন । এই দুই লেকের জলে নোঙর করা জাহাজমহল ছিলো হেরেমখানা।
জাহাজমহল
হিন্দোলা মহল হচ্ছে একটি দেওয়ানি দরবার হল। স্লোপিং দেওয়াল এবং পিলারের কারসাজি দেখে দেখে মনে হবে মহলটি দোদুল্যমান। তাই এর নাম হিন্দোলা মহল। স্যান্ড স্টোনের অপূর্ব কাজ মহলটিকে করেছে দৃষ্টি নন্দন।
হিন্দোলা মহল
হোসং শাহের সমাধিক্ষেত্রটি অসাধারণ। মার্বেলের তৈরী সূক্ষ আফগান স্থাপত্য। মনোমুগ্ধকর এর স্থাপত্যশৈলী।
রয়েছে প্রখ্যাত জামি মসজিদ। এটি দামাস্কাসের বিখ্যাত মসজিদের অণুকরণে বানানো । বাজ বাহাদুর বানিয়েছিলেন তাঁর প্রিয়তমা পত্নী রূপমতীর জন্য রেওয়াকুণ্ড। দেখার আছে বাজবাহাদুরের প্রাসাদ এবং রূপমতী প্যাভিলিয়ন ।
হোসং শাহের সমাধিক্ষেত্র
মান্ডু যেতে হলে কোলকাতা যেতে হবে। সেখান থেকে যেতে হবে ইনদৌর। হাওড়া থেকে ইনদৌর ১৭৫৩ কিলোমিটার। ইনদৌর থেকে মান্ডু সড়কপথে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে মান্ডু চলে যাওয়া যায় ।
জামি মসজিদ
যেতে চাইলে গরমে না যাওয়াই ভালো। খুবই গরম সেখানে। বেছে নিন বর্ষার সময় অথবা শীতকাল। সেপ্টেম্বর খুব ভালো সময় ভ্রমণের জন্য। বর্ষায় মান্ডু অপরূপ প্রাকৃতিক রূপে সাজে।



সাময়িকী.কম

বাসাবাড়িতে দু একটি গাছ থাকলে যেনো পুরো বাড়ির লুকটাতেই পরিবর্তন চলে আসে। কিছুটা সবুজ বাড়ির চারপাশে থাকলে দেখতে যেমন সুন্দর লাগে তেমনই মন থাকে প্রফুল্ল। আর যদি সেগুলো ফুলের গাছ হয় তাহলে তো কথাই নেই। আজকাল ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে অফিসের ডেকোরেশনের জন্যও ব্যবহার করা হয় অনেক ধরণের গাছ। এগুলো তো গেল ছোটোখাটো গাছের কথা। কিন্তু আগের যুগের সেই উঠোনে একটি বড় গাছ এখন একেবারেই দেখতে পাওয়া যায় না। কিংবা একটু গ্রাম এলাকাও বিশাল আকারের বড় বড় গাছের সংখ্যাও ইদানীং কমে এসেছে। তারপরও খুঁজলে পুরোনো বেশ বড় কিছু গাছের দেখা পাওয়া যাবে এখনো।


এতো গেল আমাদের দেশের কথা। বাইরের দেশগুলোর অবস্থাও কি একই ধরণের? কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো অবশ্যই। আবার কোনো কোনো দেশে অসাধারণ সুন্দর ধরণের কিছু গাছের দেখা মেলে। এই মনোমুগ্ধকর অবিশ্বাস্য ধরণের সুন্দর গাছগুলো নিয়েই আমাদের আজকের ফিচার। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক কিছু শ্বাসরুদ্ধকর সুন্দর গাছের ছবি।





প্রায় ১২৫ বছরের বেশি বয়সী এই রোডোড্রেন্ডোন গাছটি এখনো আগের মতোই রঙিন ফুলের সুবাস ছড়িয়ে যায় নিয়মিত। এই গাছটি রয়েছে কানাডাতে।





প্রায় ১৯৯০ স্কয়ার মিটার (আধা একর) জায়গা জুড়ে থাকা এই গাছটি পৃথিবীর বড় গাছগুলোর মধ্যে একটি। এই ১৪৪ বছর বয়েসী ওয়েস্টেরিয়া গাছটি রয়েছে জাপানে। প্রচ্ছদে যে ছবিটি দেখতে পাচ্ছেন তা অবিশ্বাস্য সুন্দর এই গাছটিরই।





ওয়িন্ড সুইপ্ট ট্রি অফ সুইজারল্যান্ড। বিপুল শক্তির বাতাসের সাথে লড়াই করে বেড়ে ওঠা এই গাছগুলোর আকৃতি কোনাকুনিই হয়ে গিয়েছে বর্তমানে।





জাপানিজ ম্যাপেল ট্রি, পোর্টল্যান্ড, অরেগন।





আর্জেন্টিনা ও চিলির কাছে এন্টার্টিক বিচে বেড়ে উঠা আরেকটি ম্যাপেল ট্রি।





এই অ্যাঞ্জেল ওক গাছটি প্রায় ১৪০০-১৫০০ বছর পুরোনো বলে ধারণা করা হয়। এই গাছটি প্রায় ৬৬.৫ ফিট উঁচু। এটি রয়েছে সাউথ ক্যারোলিনায়।





দ্য ড্রাগনব্লাড ট্রি। অদ্ভুত রকমের এই গাছগুলোর দেখা মেলে ইয়েমেনে।





এই গাছটির নাম ‘দ্য প্রেসিডেন্ট’। বিশ্বের সবচাইতে উঁচু গাছের তালিকায় এর অবস্থান ৩ নম্বরে। ২৪১ ফিট উচ্চতা এবং ৯৩ ফিট ব্যসের এই জায়ান্ট সেকুয়া গাছটি ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত।





মাদাগাস্কারে এই অদ্ভুত রকমের বাওবাবস গাছগুলো দেখা যায়। এই গাছগুলোর মোটা কাণ্ডে এরা পানি জমিয়ে রাখে। এবং চরম মাত্রার খরায়ও বেঁচে থাকে এই গাছগুলো।





রেইনবো ইউক্যালিপটাস গাছ, কাউয়েই, হওয়াই।

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.