Articles by "কবিতা"

কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ইচ্ছে জাগে তারা হতে
শচীন্দ্র নাথ গাইন

অসীম আকাশ ভীষণ উদার, ভাবতে থাকে খোকা,

তারাগুলো তার আঙিনায় দেখায় ফুলের থোকা।

মিটিমিটি তাকিয়ে ওরা রাতটা কাটায় জেগে,

ওদের সাথে লুকোচুরি খেলতে থাকে মেঘে।

সেই তারারা ঝরিয়ে চলে লক্ষ বাতির আলো,

তাদের পরশ দূর করে দেয় নিকষ আঁধার কালো।

মিষ্টি চাঁদের বাড়িয়ে শোভা জমায় খুশির মেলা,

নীল সাগরে সাঁতার দিয়ে দেখায় মজার খেলা।

নিশুতি রাত স্বপন আঁকে ওদের ভালোবেসে,

সাঁঝের থেকে ভোর অবধি চলতে থাকে হেসে।

ওদের মাঝে বইতে থাকে খুশির উছল ধারা,

তাইতো খোকার ইচ্ছে জাগে হবে রাতের তারা।

দু’হাত মেলে স্বাধীনভাবে ছুটবে আকাশ জুড়ে,

পরীর মতো মেঘের সাথে চলবে উড়ে উড়ে।

ইচ্ছেগুলো যায় পালিয়ে, কারণ শাসন কড়া,

পড়ার চাপে যায় না মোটেই এক মিনিটও নড়া।

চারপেয়ে প্রাণী
শেখ সালাহ্উদ্দীন

দূর থেকে দেখে হঠাৎ ব্যাঙটা ভয়ে দিল এক লাফ

রাস্তার মাঝে শুয়ে আছে এক বড়সড় কালো সাপ!

কাছে এসে দ্যাখে-সাপটা আহত, কোনোমতে পড়ে আছে

সাহস করে সে গুটি গুটি পায়ে এগোয় সাপের কাছে।

সাপের এমন অবস্থা দেখে সাহসটা যায় বেড়ে

অগ্নিমূর্তি ধারণ ক’রে সে রেগেমেগে যায় তেড়ে-

সাপকে জোরসে লাথি মেরে বলে, ‘ঘটে কি বুদ্ধি নাই

যে পথে আমরা চারপেয়ে চলি সেই পথে হাঁটা চাই?

আমরা হলাম চারপেয়ে প্রাণী শৌর্যে-বীর্যে সেরা

বল তুই কোন্ সাহসে করিস এই পথে চলাফেরা!’

সাপ বলে, ‘ভাই, আমাকে দলিত করেছে বিশাল হাতি

আর তুমি ব্যাঙ সুযোগটা পেয়ে মারছো আমায় লাথি!’

আজকে আমায় তুচ্ছ করছো আহত হয়েছি বলে

কী বিবেচনায় তুমিই বা নিজে হাতির তুল্য হলে?’

চিত্রার ভূমিপুত্র

ডি.ডি মল্লিক

আজি থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে,
মাতৃগর্ভ থেকে তুমি উঠে ছিলে জেগে,
লাল টুকটুকে সোনার ছেলে,
তুমি সেই লাল।
হয়েছো মহান করেছো অম্লান,
নড়াইল জেলার নাম।
সুযোগ সুবিধা ছিলো না তোমার,
ছিল যে সৎ মা।
ভাতের থালাটি কেড়ে নিয়ে,
তোমায় বলেছে
যেখানে পারিস যা।
ঘর ছেড়েছো
দেশ ছেড়েছো
ছেড়েছো ভিটেমাটি,
তাইতো তুমি মহান হয়েছো
একথা খুবই খাঁটি।
পকেটে ছিলনা পয়সা তোমার,
স্বপ্ন ছিলো যে চোখে
স্বপ্নের শহর কলকাতা তোমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে।
সেখানে পেয়েছো অরুন বাবু,ছিল যে শহীদ সোহরাওয়ার্দী
স্বপ্ন পূরণে তারাই তোমার সব থেকে শুভাকাঙ্ক্ষী।
ঘুরেছো তুমি দেশ বিদেশ,
হয়েছো মহান আরও
টাকার নেশা পায়নি তোমায় দাম দাওনি কারও।
বিদেশে থেকেও তোমার তুলিতে
ফুটেছে এদেশের ছবি।
তাইতো বলেছে জসিমউদ্দীন এদেশেরই কবি।
তুমি করেছো বাংলাকে মহান,
খেটে খাওয়া যতো মানুষ,
তুলির আঁচড়ে আজও আছে তারা,
হয়নি তো কভু ফানুশ।
ভেবেছো তুমি শিশুদের নিয়ে,
করোনি অবহেলা,
রং তুলি আর ক্যানভাস নিয়ে করেছ শুধুই খেলা।
তোমার মতো মহৎ মানুষ,
পাবে না তো এই দেশ
তোমার জন্য চিনেছে মানুষ ছোট্ট বাংলাদেশ।
তুমি এঁকেছো আদম হাওয়া,
এদেশের জলবায়ু,
তোমার তুলিতে কৃষক পেয়েছে দীর্ঘতম আয়ু।
কখনও বধু কলসি কাঁখে,
কখনও মায়ের মতো,
কখনও আবার স্বামীর সাথে,
কর্মে থেকেছে রত।
তুমি হেঁটেছো শতক্রোশ পথ
হেঁটেছো খালি পায়ে,
জোটেনি তোমার শীতের বস্ত্র,
থেকেছো খালি গায়ে।
তবুও ভেবেছো এদেশেরই কথা
কৃষক সমাজ নিয়ে,
ঝরিয়েছো ঘাম সাদা ক্যানভাসে,
শ্রেষ্ট সময় দিয়ে।
আজ চিরনিদ্রায় শুয়ে আছো তুমি,
চিত্রা নদীর পাড়ে
বহমান চিত্রা আজও বয়ে যায়,
গাছের পাতাটি পড়ে।
তুমি আমাদের গর্ব
এই দেশের গর্ব,
তুমি সেই শিশু লাল।
স্মরণ করি তোমাকে আমরা,
এস এম সুলতান ৷

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
সাময়িকী.কম


দু'টো পেন্সিল
টেবিলের পেন্সিলদানিতে  
দু'টি পেন্সিল মুখোমুখি,
কথা বলছে?
তাই হয় নাকি!
প্রতিদিন এমন হয় না;
প্রতিদিন তারা ভিন্নরকম।
অন্যরকম,
একে অন্যের খুব কাছে।
কখনোবা সটকে পড়ে দূরে- পেন্সিলদানির
বাইরে গুটিঁসুটি হয়ে অশ্রু বহায়।
প্রতিদিন কি কি কথা হয় তাদের মাঝে?
সাংসারিক না প্রেম-প্রণয়-
দু'টি পেন্সিল: একটা লাল একটা সবুজ।
ক্রমে ক্রমে ক্ষয়ে যাচ্ছে 
শার্পনারের ধারালো আঘাতে।
পেন্সিল দু'টো একে অপরকে আগলে রাখছে,
হারিয়ে যেতে দেয় না ভারসাম্যের অলকে।
একদিন দেখলাম দু'টোই মেঝেতে উবু হয়ে পড়ে আছে।
একটা একটার উপরে
ওদের দেখে আমার খুব জানতে ইচ্ছে হল।
ওরা কি জীবন্ত;
শেষরাতে ওরা কি সঙ্গম করে?
সেকি- সঙ্গমের খাতিরে তবে
জড় জীব হয়ে উঠে!
-ভেবেই হাসি পেলো আমার।
কালো পেন্সিলদানিতে দু'টো পেন্সিল:
একটা লাল একটা সবুজ।



আনিসুর রহমান

টাকার মাপে সময়ের হিসেব কষে কেউ
কুশলী কারবারি শেঠ, গুণে সমুদ্রের ঢেউ
ফন্দি আবিষ্কার হয়ে গেছে, সব দেনা ও পাওনা
সেন্সরে মিশে আছে, নিঃশ্বাসে নিমেষ মেশে
মিটারে পুঁজিপতি ফায়দা খোঁজে ইথারে
এপারে উপোস মানুষ রাতের প্রহরে
লাভের মাতাল ঠেকায় মাথা টাকার পাহাড়ে |


পানির হিসেব
টাকার হিসেব
রঙের হিসেব
তাপ উত্তাপ
শব্দ আলো
সবকিছুর পাইপাই হিসেব
এরকম হিসবের ভীড়ে কতজন ঠকেছে কতজন জিতেছে
তার হিসেব কে কবে রেখেছে? এদিক সেদিক মামলা ঠুকেছে?


শুধু হিসেব নেই জীবনের মরণের ক্ষুধা আর হরণের
পাছামোটা মধ্যবিত্ত হিসেবী উচ্চবিত্তের পুটকি শুঁকেছে
আর বারবার হাততালি আর পুরস্কার জিতেছে
গরীব এক একটি রাত, এক একটি দিন ক্ষুধার মাপে মেপেছে
উচ্চবিত্ত ক্ষমতার ভোজে মেতেছে, তেলতেলে মধ্যবিত্ত উচ্ছিষ্ট চেটেছে
ক্ষমতার গন্ধে লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছে, তুলকালাম কাণ্ড বেঁধেছে |


কতজন বেহিসেবী অপবাদ পেয়েছে, হিসেব না জেনে,
হিসেব না মেনে , ভতসনা খেয়েছে কতজন কতমন
জীবনানন্দ ট্রামে চাপা পড়েছে জগতের কতজনে
জীবনে অপচয় দেখেছে, কবিতায় তার ছবি এঁকেছে !
কতজন মনের মাপে কল্পনার অপচয় ঠেকিয়েছে
জীীবনের মাপে সুন্দরের খতিয়ান লিখে গেছে,
রফিক আজাদ, সময়ের কবি, জীবন দেখে হাতে করে রবি|

১২ই চৈত্র ১৪২২ / ২৫শে মার্চ ২০১৬

আনিসুর রহমান

মহাদেশ ঘুরে, মহাকাশ ফুরে  ভাই নরেনন্দ্রকে নমস্কার করে, রাজা উজির  মেরে
মক্কা মদীনা করে পরহেজগার পোশাক পরে, গয়া কাশি গঙ্গা  সকল আরশ উজার করে
দিগ্বিজয়ীী বীর আমি  মাথা  আমার ঘুরে, ডিজিটাল  রাবিশ  খবিস  ঝাড়িঝুড়ি মেরে,
হারামজাদা  গালিটালি  ভুলেটুলে গিয়ে, আহা সুশীল সুবোধ সেজে জগতের মেডেল পরে,
আমি শাান্তির কথা কই, দুনিয়ার খবর লই, নিজের ঘরে বাজ পড়ে জগতের ঠিকাদারি করে,
 চুরুটের ধোঁয়া  ছেড়়ে আমি রঙের গান ধরি, সময়  সুযোগ বুঝে টকশো ফকশো করি,
ড্রইংররুম যেন পল্টন  ময়দান, দুনিয়া উদ্ধার  করি, কে সে আহাম্মুক বলেছিল  অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী?

আদরের বোন  বিনোদিনী পরীক্ষায় এ  প্লাস পেল, এ খুশির খবরে কই বিনু তুই বড় হয়ে কি হবি বলো,
তুমি  কেমন  ভাই? ওরা নগরের পরে তনুদিরে, ধর্ষণ করে খুন করে  কাট  মারে,  দুনিয়ার  মাঠে চড়ে
তুমি বেঁচে আাছো কোন  মুখ করে? টুইটার ফেসবুক করো, আইফোন স্মার্টফোনে  বীরত্ব জাহির করো,
এ  প্লাসের খেতাপুড়ি,  রাাখো তোমার বাহাদুরি, তনুশ্রীর  নামে শপথ করি, বড় হয়ে বড়  কাজ  করি,
আমি তনুর ছোটবোন, দিদিরে  মনে পড়ে পুলিশের মাঝে নলিপপ বিলি করি, মন্ত্রীর মুখে লেভেননচুষ ধরি
দিন শেষে  নগররের সিংহদরজার  পরে ধর্যকনিবাস মোড়ে ইচ্ছে হয় এক এক করে  ধর্ষকের নুনু  কর্তন করি ! 

-সৈয়দ শরীফ
সাময়িকী.কম

             
.
   সত্য বাণীতে আমি কান পেতেছি
          সঁপে দিয়েছি মম-চিত্ত,
    মহাশূন্যের ধুলো-বস্তু জমাটে
       তৈরী আজকের মহা-বৃত্ত।
.

     সেই বৃত্তের মাঝে ফুটে উঠেছে
            লাল-সবুজের চিত্র,
      তারো বুকে চির অমৃত আছে
          সোনার দেশের মিত্র।
.
      সে থাকবে মহা-প্রলয় অবধি
          চির জীবিত বঙ্গ-প্রান্তে,
   যে বাঙালির জন্যে দিয়েছিল প্রাণ;
       পড়েনি সে কভু ক্লেশ-ক্লান্তে।
.
   স্লোগান ছিল তাঁর আকণ্ঠ ফাঁটানো
      এক মহা-প্রলয়ের ঝরো-হুঙ্কার,
  সেই স্লোগানেই যুদ্ধে নেমেছে বাঙালি;
  কণ্ঠে ছিল "জয় বাংলা"র বজ্র চিৎকার।

      কিছু শত্রু এসেছে করতে বিকৃত
          সেই বঙ্গ-মিত্রের ইতিহাস,
    শাহাবাগ তাই জেগে উঠেছে আজ
         গুপ্ত চেতনা করতে উদ্ভাস।
.
 উৎসর্গঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান'কে

ডি এম সাব্বির
সাময়িকী.কম

হৃদ আকাশে চাঁদ উঠে না
সেই কাননে ফুল ফোটে না

এখন আকাশ মেঘে ঢাকা
কলিতে নেই ফুল,
এখন কবির কবিতা তে
অগণিত ভুল।

এখন এমনি সুখ জুটে না
কারো পিছে কেউ ছুটে না

সুখের গায়ে সুরক্ষা কোড
-সবাই স্বার্থবাদী,
কবির কলম ফুপিয়ে বলে
লিখি না আজ কাঁদি।

কবিতায় আজ রাগ টুটে না
কবিতায় কেউ সুখ লুটে না

তাও কবিতার জন্যে কবি
হয় উদাসীন বন্য,


তার কবিতা, কলম তারই
কবিত্ত্বেই সে ধন্য।

ওসমানীনগর, সিলেট। 

শায়মা জাহান তিথি
সাময়িকী.কম
একুশ-
তুমি কি আজ কেবলই একটি সংখ্যা?
ফুরোচ্ছে সময়;
হচ্ছে যে আজ তোমায় হারানোর শংকা!
তুমি কি শুধুই তরুণীর পরনের সাদা শাড়ির কালো পাড়!
কিংবা যুবকের পাঞ্জাবীতে আঁকা খেয়ালী বর্ণের বাহার!
একুশ- তুমি হারালে কোথায়?
তুমি কি আজ কেবলই গান-কবিতা আর বক্তৃতা-সেমিনার?
তুমি কি আজ বন্দী শুধুই আনুষ্ঠানিকতায়?
নইলে কেন পদে পদে আজ নিষ্পেষিত আমার ভাষা;
চেতনা কেন পাই না তব, সময় কি এসেছে হারাবার? লাঞ্চিত আমার শহীদ ভাইয়ের দান?
কেন তবে আজ বাংলার মাঝে ঠাঁই করে নেয় হিন্দি?
কুন্ঠা কেন তবে অবাধ উল্লাসে প্রকাশিতে আজ বাংলার জয়োগান! বাংলা! সে তো আজ স্বাধীন নয়; ইংরেজির জালে বন্দী। সময় এসেছে একুশ-
সে রক্ত দিয়েছে আমার ভাই, আমার বাবা;
তুমি ফিরে এসো! সংখ্যা হয়ে থেকো না আর; রক্তের ধারা হয়ে ভেসো। যে রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা ভাষা; যে রক্ত ছুঁয়ে শপথ করেছে আমার বিধবা মা,
আমার ভাষা। তাকে কোরো না অপমান।
সেই রক্তের দান-

সৈয়দ শরীফ
সাময়িকী.কম

আমি পাগল,
আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল!
আমার নাই, নাই, নাই কোনো দল!
আমি সত্যান্বেষী এক সাম্যবাদী মহল--!
ধর্ম-বণিকের কণ্ঠে আমি বাঁধি দেব শিকল-
_______আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল--!!

আমি এক উন্মাদ সিন্ধুর মাতাল জলঢেউ,
স্রষ্টা বিনে আমায় কভু থামাতে পারবেনা
আর কেউ--!
আমি এলোকেশো মহা ঘুর্ণি-পাকের
উত্তাল ঢল,
আমার লাগেনা কোনো অস্ত্রধারী দল--!
আমি নিজেই নিজের বাহুবল,
________আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল--!!

আমি সকল মৃত কবির প্রেতাত্মা,
রক্তপিপাসুকে গলা টিপে করবো আমি
হত্যা--!
আমি কলমধারী নির্ভীক লেখকের ভাষা-বল,
আমি এসে করে দেব ম্লান,
যত অন্যায়, অনিয়ম, উশৃঙ্খল--!
আমার শক্তি বহুতল-
_______আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল--!!

আমি অসহায় নারীর ন্যায্য অধিকার,
আমি মানিনা কোনো অন্যায়, অবিচার--!
আমি ধর্ষিতা বোনের নিষ্পাপ চোখের জল,
আমি দুর্বৃত্ত হয়ে ধর্ষক তোদের করবো
মাটিতল--!
তোদের জন্য কভু পড়বেনা আমার চোখের
জল,
_______আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল--!!

আমি মহাশূন্য থেকে এ ধরায়, ধূমকেতু হয়ে
আসবো,
আমি অসৎ সমুদ্রপথে মাতাল প্রহরী হয়ে
ভাসবো--!
আমি মহান-বৃত্ততল কভু করতে দেবনা অচল,
আমি কিং-কোভরা হয়ে সৃষ্টিধ্বংসাকে
মারবো বিষাক্ত ছোঁবল--!
আমি লাইনচ্যুত করে দেব রক্তখেকোর
রক্তচলাচল,
_______আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল--!!

আমি কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার
ভাষা,
আমি স্বাধীনতাবাদী মুক্তিসেনাদের
আশা--!
আমি পাকি-হায়েনার চিরশত্রু একটি দল,
আমি জাহানারা ইমামের ছেলে হারানো
চোখের জল--!
_______আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল--!!

আমি মুক্তি-শহীদদের সর্বশেষ নিশ্বাস,
আমি বাঙালির মনের চির আত্মবিশ্বাস--!
আমি জখম হওয়া লেখকের শেষ দমোবল,
লেখক; তোদের রক্তের কসম,
কভু ছাড়বেনা কলম তারুণ্যের দল--!
আমি বাজিয়ে যাবো তারুণ্যের চেতনাময়ী
মাদল,
_______আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল--!!

আমি মানুষের প্রতি মনুষ্য মায়া,
আমি ধর্ম-ধর্ম লড়াইয়ে মানব ধর্মের
ছায়া--!
আমি মানবতায় মুখরিত করবো মানবধারার
এই ধরণীতল,
________আমি এক ক্ষ্যাপা পাগল--!!

খিঁলগাও, ঢাকা

শায়মা জাহান তিথি
সাময়িকী.কম

এই অজানা-অচেনা তুমি, আমার জীবনে এসে; বদলে দিলে হৃদয়েরই ভূমি, ফেললাম ভালোবেসে। দিন-রজনী যায় যে চলে তোমায় ভেবে ভেবে, তোমায় ভেবেই রাত্রি নামে, দিনের আলো নেবে। নিঃশব্দে নীরবে ভেসে যাব স্রোতের তরী বেয়ে, সঙ্গে স্রোত নাইবা আসুক, কী-ই বা যায় তাতে! নিঃসঙ্গ এ আমি – স্রোতের আসায় ভাসাইনি তো- দামী নৌকা খানি!!

মোঃ আব্দুল হাফিজ
সাময়িকী.কম
ছবি: সংগৃহীত 


শীতকালের শুরু
পৌষ এসেছে আদাজল খেয়ে
প্রথম কিস্তিতেই বাজিমাত
ঘরমুখো করেছে প্রাণীকুলকে একেবারেই
সবাই কাঁপছে হুহু করে
রাস্তার ধারের খেঁকি কুকুরও জবুথবু
ছাউনির নিচে গিয়ে বাঁচতে চাই ।

বাড়াবাড়ি রকমের কুয়াশা ভাসছে শূন্যে
জমে উঠছে সুযোগ পেলেই
হিমশীতল শরীর -অনুভূতিহীন ঈন্দ্রীয়
গরম চা নিমিষেই ঠাণ্ডা ।

শিশু কিশোর - কিশোরী পড়াশোনা ছেড়েছে
ঢুকে পড়ে লেপের নীচে
আর মায়ের ভয়ে ছড়া বা নামতা আওড়ায়।

কুয়াশার চাদর ঢেকে দেয় দিনের আলো
এমনকি সবার মুখে মুখে কুয়াশা
জমে উঠে শিশিরবিন্দু হয়ে
গাছে গাছে
আনাচে কানাচে ।
মাঝে মাঝে শিশির ও রোদের মিতালী

ঠকঠক করে কেঁপে উঠে হাত
সাথে কলমটিও
কবিতা কাঁপে
গল্প কাঁপে
কাঁপে উপন্যাস
কবি লেখকের সাথে তারাও কুঁকড়ে যায়
সেঁধিয়ে যায় লেপের নীচে ।

বেনাপোল
১৮ পৌষ ১৪২২
০১ জানুয়ারি , ২০১৬

মোঃ আব্দুল হাফিজ
সাময়িকী.কম

সোঁদা মাটির মোহময় গন্ধ
একটু দুরেই বিস্তৃত পাটক্ষেত
পাতায় পাতায় ভুঁঞা পোকার
ধীর গতিতে চলাফেরা
যেন সহিষ্ণু হতে শেখায়
আর ডেকে বলে -
এসো আমাদের সাথে খেল
সামাজিক জ্ঞান অর্জন কর।
কর্দমাক্ত পথ পেরিয়ে ছোট একটা
গাছের গুঁড়ি যেখানে পিঁপড়েরা সারিবদ্ধ হয়ে খাদ্য সঞ্চয়ে ব্যস্ত
"পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি "
প্রবাদটি মনে করিয়ে দেয়।
দু'পাশে ধানী জমি
মাঝে মাঝে আইল
অজগরের মতো এঁকেবেঁকে জমির মালিকানা আলাদা করেছে।
কিছুদূর এগিয়ে শালিকের ওড়াওড়ি খেলা
প্রাণবন্ত মাতলামিতে বিষন্নতার অবসান
দিগন্ত পেরিয়ে আকাশ আর জমিনের সহবাস
একে অপরকে ছোঁয়াছুঁয়ির খেলা
ভালবাসা জাগায় প্রাণে প্রাণে।
হতভম্ব আকাশের বিশালতায়
কোথায় শেষ তার
করেছে কে সৃষ্টি?
নিপুণ হাতের ছোয়ায়!
দেহে এনেছে আত্মা
আত্মায় এনেছে প্রাণ
বিশাল মাঠের শেষপ্রান্তে
হাওড় বাওড়
প্রান্তে প্রান্তে কাশফুলের নাচানাচি
এ যেন মহামায়ায় ভরা স্বর্গের হাতছানি
বোধোদয়!
প্রকৃতির কাছে মাথা নোয়ানো
প্রকৃতিই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।

বেনাপোল

ইমরুল হাসান সাদ্দাম
সাময়িকী.কম

আকাশ ছোয়ার স্বপ্ন ছিলো
সে তো অনেক দূর
স্বপ্নের গানে মিলে নাকো
বাস্তবতার সুর।

স্বপ্নে আমি উড়ে বেড়াই
নীল পরীদের দেশে
বাস্তবতায় কেদে মরি
দুঃখের ভেলায় ভেসে।

সুখে আমায় হাতছানি দেয়
দুঃখ পিছুটানে
স্বপ্নগুলো ভেসে গেলো
কষ্ট নামক বানে।

রঙ বেরঙের স্বপ্নগুলো
আর কখোনো দেখবনা
দুঃখ পেয়ে কাদবো তবু
সুখের পিছু ছুটবোনা।

আজিম আকাশ
সাময়িকী.কম

চলৎ চলৎ
 
চলৎ চলৎ চরণ তব চপলা যখন
চন্দ্রালোকে ভরে মন ঐ রূপ দর্শন;
দুরু দুরু করে মন শুধু আনচান
মিটে না পিয়াস তবুও কিছুতেই
শত দর্শনে ঐ অনিন্দ্য চাঁদবদন।
চাতক পাখির মত সুদূরে দৃষ্টি রয়
তোমার চলন যেন স্মৃতির শ্মশাণ;
যেন তোমার চরণ ধূলি হৃদয়ের
কাঙ্খিত কোন চাতাল উঠান।
চক্রবত পৃথিবীর মেঠো পথ বাঁকে
বেশামাল লাগে তোমার ঠমক;
চলনে তোমার কি যে কারুকাজ
বিমোহিত আঁখিতে ইন্দ্রজালের
মত লাগে অজানা-অচেনা চমক।
চন্দ্রাংশ, চন্দ্রতাপ, কত চাঁদোয়া
তোমার চরণে খায় লুটোপুটি;
যেন আলতা রাঙ্গা দু’টি চরণ
চিরকাল আঁধারকে পেরিয়ে
কেবলই আলোর পথে ছুটোছুটি।
তোমার ক্লান্তিহীন ছুটে চলা
মোর হৃদয়কে করে স্বপ্নাক্রান্ত;
চেয়ে দেখ একবার পিছু ফিরে
কতটা ব্যাকুল হয়ে অধীর চিত্তে
তব প্রেমের তৃষায় কতটা ক্লান্ত—।
 
 
সরলতার প্রতিমা
 
ধরণীর বুকে পৃথিবীর আলো-ছায়ায়
যেদিন এসেছিলে তুমি রিক্ত হস্তে,
জননীর কোলজুড়ে ছিল রাশি রাশি
নীল চাঁদোয়ার কষ্টার্জিত নির্মল হাসি।
 
যে হাসির আড়ালে লুকানো ছিল
দশ মাস দশ দিন মাতৃ গর্ভে ধারণ-
করার নিদারুন কষ্টের আহাজারি,
কত কষ্ট-কত যন্ত্রনা সয়ে সয়ে
সৃষ্ট্রার ইশারায় ভবে সৃজিলেন যিনি;
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার আসনে-
অধিষ্ঠিত সেইতো জননী তিনি।
 
তিনি বিশ্ব জগতের তথা সৃষ্টির
শ্রেষ্ঠতম মহিয়সী এক মানবী-
যেন সরলতার এক মূর্ত প্রতিমা;
স্রষ্টার পরে ভক্তি ও শ্রদ্ধাসহ যাকে
হৃদয়ে স্থান দেয়া যায় সেইতো মা।
 
পৃথিবীর সমস্ত সরলতা যেন তার
দেহের ভান্ডারে সঞ্চিত রাশি রাশি,
সন্তানের তরে ধরণীর বুকে তিনি
কত কষ্ট-কত লাঞ্ছনা, যন্ত্রনা সয়ে
জীবন যুদ্ধে করেন সংগ্রাম আমরণ;
তব মুখে ফোটাতে একটু চাঁদের হাসি
দু:খকে করেন তিনি সাদরে বরণ।
 
শত কষ্টকে বুকে মাটি চাপা দিয়ে
বেঁচে থেকেও যেন জীবন্মৃত শ্মশান;
তবু সন্তানের কাছে বিম্বিসার এই
ধরার বুকে পায় না ততটুকু সন্মান।
 
এসো মোরা তবে, হাতে হাত রেখে-
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, করি সতত পণ;
জননীর প্রতি সন্তানের অধিকার-
নির্দ্ধিধায় করবো প্রতিষ্ঠা, অনুক্ষণ।

এ কিউ এম নিজাম ঊদ্দিন
সাময়িকী.কম


বসুন্ধরার তীক্ষ্ণ পথে
আমি একলা পথিক ভাই
র্দুগম জনহীন পথে মোর
সাথী কেউ নাই।
ঐ তেপান্তরে
দেখছি মশাল
জ্বলছে আলো
ভাবছি -
সেই আলোতে কি
আলোকিত হবে অভাগারর জীবন?
সেই আলোতে কি
আলোকিত হবে বাঙ্গলার ভূবণ?
মনে অভিলাষ নিয়ে
দুর্গম পথ ডিঙ্গয়ে
গেলাম তেপান্তরে,
তখন-
নিবু-নিবু করছে মশাল
অনাকাংখিত ঝড়ে।।

মোঃ আব্দুল হাফিজ
সাময়িকী.কম

মৃত্যু তুমি নিষ্ঠুর,
তুমি সত্য ও সুন্দর।
কোথায়,
তুমি নেবে আমায়?
আছে কী সেথায় কোকিলের গান,
ভোরের শিশির ভেজা হাতছানি ভালবাসার।
তবু তুমি, নেবে আমায়!
আছে কী সেথায়-
কিশোর-কিশোরীর কণ্ঠে
"আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালবাসি"
রবী ঠাকুরের অবিনাশী গান।
আর ডি এল রায়ের অমৃত সুধা-
"এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি ,
সকল দেশের রানী সে যে
আমার জন্মভূমি।"
বই পড়তে ভালবাসি খুবই।
বই-এর শুঁটকে গন্ধটাও আমার খুবই প্রিয়। জুটবে তো সেথায়?
শুঁটকে গন্ধযুক্ত সে বইগুলো-
আমার প্রিয় উপন্যাস, প্রফুল্ল রায়ের "মহাযুদ্ধের ঘোড়া" ও সমরেশের "গর্ভধারিনী "।
রবী ঠাকুরের গীত বিতান,নজরুলের "সঞ্চিতা ",শেক্সপিয়ার রচনা সমগ্র  ও আরো সব কবি ও লেখকদের লেখা।
বলো, নিষ্ঠুর মৃত্যু;
তুমিই বলো!
মা কী ডাকবে আমায়-
বলবে কী?খোকা সোনা, গেলি পড়ে!
আয়,কাছে আয়
ব্যাথা পেলি কোথায়?
বাবা কী ঘাড়ে নিয়ে
হাঁটাবে এ ঘর ও ঘর
হাত ধরে হাঁটাবে কী সারাটি বাজারময়?
"একমাত্র কন্যা আমার
বারবার ডাক দেয়;
বাবা ও বাবা
যখন কাক ডাকা ভোর;
বিছানা ছেড়েই বলে ওঠে
"ওঠো বাবা,খোলনা দোর।"
পিতা-কন্যার পবিত্র ভালবাসা;
প্রতীক্ষারত অভূক্ত স্ত্রীর ভালবাসা, যা কেবলই প্রেমময়।
একমুঠো ভাতের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করা শ্রমিকের ও বাপজান বলে অন্তরের ডাক-হাঁক,
তাদের কাছে যাবার তরে
ভাবাবে কী আমায়?
মৃত্যু, হে নিষ্ঠুর মৃত্যু
পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের দেখলেই আমার মন কেঁদে উঠে।
তাদের তরে সময় কাটাতে খুবই ভালোবাসি এবং সপ্তাহে অন্তত একবার।
ও আমার সত্য-সুন্দর মৃত্যু,
তুমিই বলো!
থাকবে তো সেথায়-
সেই সব সুন্দর মুখগুলো।
তুমি ছাড়বেনা জানি
তবু আমার এটুকু মিনতি-
ভালবাসাহীন করোনা আমায়!
আমিতো ভালোবাসাহীন হতে চাই না!

রচনাকাল:
০২/০১/২০১৫

নাসিম আহমদ লস্কর (নিভৃত)
সাময়িকী.কম

মানবতা,
তুমি আজ বিবস্ত্র কেন
কেন তুমি আজ এত অকিঞ্চণ?
তুমি বিহনে এ ধরায় ধরে যাচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ।

মানবতা,
তুমি মহাদেবী,
তোমাকে আজ সভ্যতার শিখরে চাই,
তোমার অন্তর্ধানে এ বসুধা হয়ে যাচ্ছে ছাই।
তোমার দেহে আমরা মানবরা শাড়ি হতে চাই,
তুমি বিহনে এ ধরায় নেই আমাদের ঠাঁই,
তোমার চরণে আমরা নুপুরের মত ধ্বনি সৃষ্টি করতে চাই।

মানবতা,
তুমি যদি আস ফিরে
তবে আমরা থাকব সুখের নীড়ে,
এ ধরায় থাকবেনা কোন হানাহানি
এ ধরা হবে সাম্যের পূজারী।

মোঃ জাহিদুল ইসলাম
সাময়িকী.কম

রক্তে ভেজা ফসলী উর্বর মাটি আর বিবর্ণ সবুজ ঘাস
বুকের ভেতর কান্না করে, বঙ্গবন্ধুর লাশ।
যদি জন্ম না নিতো হাজার বছরের বঙ্গবন্ধু 
পেতো না বাঙালি স্বাধীনতার উষ্ঞ আস্বাদ,
পাকিস্তানি ঐ হায়েনার পদতলে থাকত পড়ে-
আমার দেশের সংগ্রামী এই ঘুমন্ত বীর জনতা।

জাতির প্রাণ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করল কারা?
তারাই তো করলো, জাতিটাকে পিতৃহারা।
সমাজ চক্ষুর আড়ালে ঘোষক সেজে দিব্যি ঘুরছে যারা, 
একদিন বঙ্গবন্ধুর হৃদপিন্ড চুষে তারাই নিয়েছিলো কেঁড়ে তাঁজা রক্তের ধারা ! 
কী যে করুণ সেই ঘটনা,কষ্ট লাগে বুকে
কেমন করে শোক দিবসে থাকতে পারি সুখে!
ক্ষমা নাই, ক্ষমা নাই ঐ পশুরূপী হিংস্র হায়েনাদের
শান্তিপ্রিয় সকল হৃদয়ের হাহাকার ভরা এক আর্তি
ধিক জানাই, শান্তি চাই, প্রতিষ্ঠা করতে চাই বঙ্গবন্ধুর শেখানো নীতি।

আজাদ বঙ্গবাসী
সাময়িকী.কম

সবুজ সাহস ও কালো ঘোড়া 

হয়ত সমুদ্র ভেবে ভয়ের বাড়িতে লাগাচ্ছে কেউ সবুজ সাহস
কেউবা আবার কুলো ব্যাঙ ভেবে মুচকি হাসি
আঁকছে শূন্যের মিউজিয়ামে - নিজস্ব অবহেলায়।

অঙ্কুরের গহীনে কালের কীর্তি আছে কিনা
জানার আগেই কোন কোন কালো ঘোড়ার
খোয়াম নামায়
নামছে পুরুষ নতর্ক আরসব নারী খুনি।

স্বপ্নের সুদূর বুক থেকে সোনার ফসল উঠবেই
মাটির ভেতর স্রোতে হয়ে গেছে ঘোষণা

ভালোবাসার প্রান্তেরা আনমনা হয়ে যায় ফসকে যায় কিনা কালের ছবি
নতুনের চোখে কি মোহে রাতগুলো ঘোমেদের দাঁড় করায় একপায়।

নগদ ছেড়ে যে ভালোবাসা অচ্ছুতে ছড়ায় গোপন সৌরভ
দেখায় সমুদ্রের গহীন অতলের রঙ
তার কি মূল্য

নাই নাই, সেই সবের ব্যর্থ চিন্তার আকাশের মত কোন সীমা নাই।

||

নটকূলে
আঙুল ভালো লাগার স্পর্শ গিললেও
এ অবয়ব গিলছে দুঃখ। নদী আর নোট
ব্যাশ্যার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে, সংসার
জুড়ে বেড়েই চলে বেশাতির ফুল। হায় সবুজ!
তোমরা এক দিন মানুষের জন্য কেদেছিলে
আজ মানুষেরাই তোমাদের জন্য ক্রন্দসী।
চাঁদে মেঘে লুকচুরি মতই একদিন রূপেরা
সুঁইসূতোর ওপারে গোপন আর বোবাই ছিল এতো দিন
অথচ সেই গোপনেরাই আজ স্পর্শে নটকূলে
ব্যকুল।

||

চমক চিৎকারের লোভে

চোখ উল্টে ফেলার ভয়ে
কেন অবুঝের আশা জুড়ে নখরের উড়াল?
ধরে আনো সেই পুরুষের সুখ
সেই নারীর নুনভোগের - চমক চিৎকার
যে দিন শরীর তুফানে আগুনের জিহ্বা
ভুলে গিয়েছিল _ পৃথিবীর প্রথম ক্ষুধায়
ওরা গোপনের কাছে সমর্পিত হলেও
এরা যে প্রকাশ্যের কাছেই উন্মেলিত
কই?  বদলায় নি তো মানুষের সংজ্ঞার্থ।


||

কাবিনবিহী প্রেম 


জলের কারু কাজ ভেঙে যে জল উঠে যায়
মগ্নের নিরাকারে,
তাকে ফেরায় কোন রঙের পিয়াস?

ঐশ্বি বর্ণের ধুল সমবেত ঘোর
কিংবা শুন্যের স্থায়ি গহীনে যে কঠিন 
ডুবে যেতে পারে; সেই তো শুদ্ধ প্রেমিক।


অথচ সর্বভুক বাহুতেই অবুঝ জলের শিল্প হয়ে যায়
সেচ্ছাচারী নদী।

কুহক ধ্বনি মিশ্রিত চিৎকার
অন্ধ বাহুর মোহনায় গান হয়ে ফিরে অনন্ত ডানার
আলোকে।

ইঙ্গিতের গালিচা পাবার আগেই
ফুল ফলের তৃপ্ত সেবার আগেই,
অজস্র চাহনি ছিড়ে কাবিনের সেই পাতা।

পিতার রক্ত,  মায়ের মা চিৎকার, গোল পৃথিবীর 
রহস্য উন্মুচনের আগেই  কুমারী সৌকর্য
প্রেমিকের আগুনে প্লাবিত করছে ভরা মৌসুম। 

কালস্রোত,  মুছনা ওই ধুলোর কণা ওর আড়ে বসেই 
হয়ত কোন এক যুবক যুবতী ; শুনবে শেষ নদীর গান।


||

প্রেমের একটু সময় চাই


বুনো গর্ভে কায়িক ঠোঁট আশ্রিত হতেই
ঢেকির গান লোকসাহিত্যের পাতায় লুকিয়ে রেখে
একপুরুষের সেই বৌগুলো চোখে চোখে তুলে
নিচ্ছে বিজ্ঞাপনের রূপ।

ধর্মালয়ে ধুলোর রাজত্ব মেখে পৃথিবীকে বলছে
তোমার আমার সখ্য অনন্ত কাল।

প্রতিদিনের প্রেম কেদে কেদে ফিরে যায়
মানুষ তবু সংসারকে বলছে না
আমার একটুু প্রেমের সময় চাই
আমার আয়নায় আমাকে দেখতে চাই

সবুজ বৃক্ষ রাজি মৃত্তিকায় দাঁড়িয়ে
মনে বর্ষা আঁকে, সকাল সন্ধ্যা বোবা প্রাণিগুলো
ছটফট করে প্রেমের ক্ষণ চলে যেতে দেখে
অথচ বেভুলো রক্ত মাংশের স্পন্দন
মিথ্যের গায় গা ঘেষে পার করে আগুনের ঠিকানা।


নীল নদের ওই চিঠির সত্য কিংবা
আকাশের ওই ঘরটা হাতের মুঠোয় এনে দিলেও
ওরা বলবেই প্রেমের মৃতরঙে হতে চাইনা মশগোল
এখনো আমার  শরীর ধর্ম হয়নি শেষ।

রক্তের উৎসব থেকে ছিন্ন সমাজ এঁকেই চলছে
অন্ধের জৌলুস।

প্রেমের সরল নদী ভেঙে চতুষপদের আচরণ
কি সাদরেইনা মেখে নিচ্ছে শ্রেষ্ঠ দুই পায়ের জীবন।


||


সুন্দরের আগুনে চোখ পুড়ছি

ফ্রি আছি, তবুও হবে না দেখা
এখনো পাখি গোনা হয়নি শেষ
পাকা ধানেরর ক্ষেত বলছে
মাথার উপর দিয়ে সূর্য ফিরবে গন্তব্যে
সে দৃশ্য না দেখে আমাকে তারা ছাড়বেনা
সজনা গাছটা বলেছে তার পাতার ফাঁকে জোছনা উঠবে
সেই জোছনায় এক যুবতী
হাতের মেহেদি রঙ দেখাবে লজ্জা সরম ফেলে
বৃষ্টি পথটা ধুয়ে দিলেই তোমাদের কোলাহলে ফিরব আমি
দুঃখ করোনা
ওই শহরের বেহায় নদীগুলো দেখতে থাকো
গায়ের বনে সুন্দরের আগুন লেগেছে
এখন আমি সেই আগুনে চোখ পুড়ছি।

||

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.